ঘুরে দাঁড়াল পর্যটন খাত, ঈদে ৬০০ কোটির বাণিজ্য
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠছে দেশের পর্যটন খাত। সাম্প্রতিক ছুটির মৌসুম ও ঈদকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সময়ে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে, যা খাতটির ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সিলেট, বান্দরবান ও রাঙামাটিসহ জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
বিশেষ করে কক্সবাজারে হোটেলগুলোর অধিকাংশ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে যায়। একইভাবে পার্বত্য অঞ্চলেও পর্যটকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এতে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন সচল হয়েছে, তেমনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও লাভবান হয়েছেন।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহেই কক্সবাজার-এ ৬ লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। এতে প্রায় ৬০০ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হয়েছে, যা খাতটিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ঈদের টানা ছুটির সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ পায় মানুষ। আর সেই সুযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ঢল নামে সমুদ্রসৈকত নগরীতে।
লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টসহ পুরো সৈকতজুড়ে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সাগরতীরে যেন তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। পর্যটকদের কেউ সমুদ্রে স্নান করেছেন, কেউবা বালুচরে বসে উপভোগ করেছেন সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য।
পর্যটকদের ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয় অর্থনীতি। সৈকতের ফটোগ্রাফার, বিচ বাইক ও জেট স্কি চালক, ঘোড়াওয়ালা থেকে শুরু করে কিটকট ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করেছেন। পাশাপাশি জমজমাট ছিল শুটকি, আচার, পার্ল হাউস ও বার্মিজ মার্কেট।
ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের স্থবিরতা কাটিয়ে এখন ব্যবসা আবার স্বাভাবিক হয়েছে। অনেকের দৈনিক বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৫০-৬০ হাজার টাকায়।
টানা ছুটিতে সাগরপাড়ের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে ছিল শতভাগ বুকিং। রেস্তোরাঁগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। তবে দীর্ঘ ছুটির শেষদিকে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার ও বেসরকারি খাত সমন্বিত উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে এই খাতে ১০০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে আধুনিক বিনোদন সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে, সি-সেইফ লাইফ গার্ড সংস্থার তথ্যে জানা গেছে, গত ছয় দিনে সমুদ্রস্নানে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষকে নিরাপত্তা সেবার আওতায় আনা হয়েছে এবং ৮০ হাজারের বেশি পর্যটককে সরাসরি সচেতন করা হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির কারণে পর্যটকদের আস্থা বেড়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণপ্রবণতা বৃদ্ধিও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তবে তারা মনে করছেন, এই ধারা ধরে রাখতে হলে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রাসাদ প্যারাডাইস হোটেলের ব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, ঈদের পরবর্তী সময়েও প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালোই ব্যস্ততা ছিল। তবে ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় শেষের দিকে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। টানা প্রায় পাঁচ দিন হোটেলের কক্ষগুলো শতভাগ বুকিং ছিল। এ ধারা আগামী পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন খাতের এই ঘুরে দাঁড়ানো দেশের অর্থনীতির জন্য একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।




















