ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজনীতি নয়, দেশের নাম উজ্জ্বল করুন: খেলোয়াড়দের প্রতি বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তারেক রহমান খেলোয়াড়দের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের পরিচয় হবে তাদের পারফরম্যান্সে, রাজনীতিতে নয়।

সোমবার (৩০ মার্চ) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, বরং দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য এনে বাংলাদেশকে উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া এখন আর শুধু বিনোদন নয়—বিশ্বজুড়ে এটি একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশও সেই পথেই এগোচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, খেলোয়াড়দের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করে তাদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি। যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে খেলোয়াড়রা নিয়মিত ভাতা পাবেন, যা তাদের পরিবার ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশপ্রেম, টিম স্পিরিট ও দৃঢ় মনোভাব থাকলে কোনো বাধাই অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।” তিনি আলবার্ট আইনস্টাইনের উদ্ধৃতি টেনে বলেন, “যে মানুষ কখনো হারেনি, সে কখনো কিছুই করেনি।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া কার্ড চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে এ কার্ড প্রদান এবং এক লাখ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী এবং আসন্ন ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে নতুনভাবে চালু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, যার মাধ্যমে তৃণমূল থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা।

সামগ্রিকভাবে, ক্রীড়াবিদদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই নতুন এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজনীতি নয়, দেশের নাম উজ্জ্বল করুন: খেলোয়াড়দের প্রতি বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

তারেক রহমান খেলোয়াড়দের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের পরিচয় হবে তাদের পারফরম্যান্সে, রাজনীতিতে নয়।

সোমবার (৩০ মার্চ) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, বরং দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য এনে বাংলাদেশকে উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া এখন আর শুধু বিনোদন নয়—বিশ্বজুড়ে এটি একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশও সেই পথেই এগোচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, খেলোয়াড়দের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করে তাদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি। যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে খেলোয়াড়রা নিয়মিত ভাতা পাবেন, যা তাদের পরিবার ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশপ্রেম, টিম স্পিরিট ও দৃঢ় মনোভাব থাকলে কোনো বাধাই অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।” তিনি আলবার্ট আইনস্টাইনের উদ্ধৃতি টেনে বলেন, “যে মানুষ কখনো হারেনি, সে কখনো কিছুই করেনি।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া কার্ড চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে এ কার্ড প্রদান এবং এক লাখ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী এবং আসন্ন ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে নতুনভাবে চালু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, যার মাধ্যমে তৃণমূল থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা।

সামগ্রিকভাবে, ক্রীড়াবিদদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই নতুন এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।