ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকার দুই সিটিতে ভোটের আভাস

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বাড়ার পাশাপাশি মাঠে নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ দেখা গেলেও তারা এবার প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব কাজকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। যানজট, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ইস্যু ভোটের প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠেছে।

এদিকে, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২৯ মার্চ) ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আরিফুল ইসলাম আদীব এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নাম ঘোষণা করে দলটি।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে মহানগর আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনে মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজালকে দলটির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন চলছে প্রশাসক দিয়ে। বরিশাল সিটি করপোরেশনে বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মাহফুজুর রহমান, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে রুকুনোজ্জামান রোকন, রংপুর সিটি করপোরেশনে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মো. ইউসুফ মোল্লা।

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকারকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির সম্ভ্যাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলীয় ফোরামে এ বিষয়ে আলোচনা করব। ফোরামে আলোচনা সাপেক্ষে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ করবে বিএনপি।

জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীনের নাম শোনা যাচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. আবদুল মান্নানের নাম আলোচনায়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানাগেছে, দুটি আসনের উপনির্বাচন এবং সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। এরপর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হবে। এক্ষেত্রে প্রথমেই ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুরু হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকারগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে এখন জনপ্রতিনিধি নেই। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করব।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কেবল প্রতিশ্রুতি নয়—বাস্তব উন্নয়ন চান। বিশেষ করে যানজট, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

সাদেকুল ইসলাম নামে একজন ভোটার বলেন, “প্রতিবারই অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে সবকিছু হয় না। এবার আমরা কাজ দেখতে চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার এই দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হতে যাচ্ছে। ভোটের ব্যবধান খুব কম হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রচারণা ও কৌশল নির্ধারণে কোনো ছাড় দিচ্ছে না দলগুলো।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই আসনের ফলাফল শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। বিশেষ করে আগামী রাজনৈতিক সমীকরণ ও জনমতের দিক নির্ধারণে এই নির্বাচন ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঢাকার দুই সিটিতে ভোটের আভাস

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বাড়ার পাশাপাশি মাঠে নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ দেখা গেলেও তারা এবার প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব কাজকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। যানজট, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ইস্যু ভোটের প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠেছে।

এদিকে, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২৯ মার্চ) ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আরিফুল ইসলাম আদীব এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নাম ঘোষণা করে দলটি।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে মহানগর আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনে মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজালকে দলটির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন চলছে প্রশাসক দিয়ে। বরিশাল সিটি করপোরেশনে বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মাহফুজুর রহমান, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে রুকুনোজ্জামান রোকন, রংপুর সিটি করপোরেশনে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মো. ইউসুফ মোল্লা।

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকারকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির সম্ভ্যাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলীয় ফোরামে এ বিষয়ে আলোচনা করব। ফোরামে আলোচনা সাপেক্ষে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ করবে বিএনপি।

জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীনের নাম শোনা যাচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. আবদুল মান্নানের নাম আলোচনায়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানাগেছে, দুটি আসনের উপনির্বাচন এবং সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। এরপর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হবে। এক্ষেত্রে প্রথমেই ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুরু হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকারগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে এখন জনপ্রতিনিধি নেই। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করব।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কেবল প্রতিশ্রুতি নয়—বাস্তব উন্নয়ন চান। বিশেষ করে যানজট, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

সাদেকুল ইসলাম নামে একজন ভোটার বলেন, “প্রতিবারই অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে সবকিছু হয় না। এবার আমরা কাজ দেখতে চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার এই দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হতে যাচ্ছে। ভোটের ব্যবধান খুব কম হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রচারণা ও কৌশল নির্ধারণে কোনো ছাড় দিচ্ছে না দলগুলো।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই আসনের ফলাফল শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। বিশেষ করে আগামী রাজনৈতিক সমীকরণ ও জনমতের দিক নির্ধারণে এই নির্বাচন ভূমিকা রাখতে পারে।