ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাম আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশজুড়ে আবারও হাম সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং সচেতনতার ঘাটতির কারণেই সংক্রমণ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দুই মন্ত্রীকে সারা দেশ ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদীয় কমিটির বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্রিফ করেছে। সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। দুজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন সারা দেশ ঘুরে পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে।’

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর খবর আসছে। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই (রামেক) হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত তিন মাসে ৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, দেশে দীর্ঘ ৮ বছর হামের টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে টিকা সংগ্রহে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক ওষুধশিল্প মেলার উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘মিজেলসের রোগী অনেক বেড়েছে। আট বছর আগে শেষবার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। এরপর আর কোনো সরকার এই টিকা দেয়নি।’

তিনি জানান, ‘ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, পারচেজ কমিটি পাস হয়েছে। খুব দ্রুত আমরা ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হয়। তবে দীর্ঘদিন এই কার্যক্রম স্থবির থাকায় নতুন করে সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরের শুরুতেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের রোগী শনাক্ত হয় এবং ১০ জানুয়ারি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতেও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি- যাদের বড় অংশই হামে আক্রান্ত শিশু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকার ডিএনসিসির ওয়ার্ডগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সংযুক্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেলে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. লুৎফুন্নেসা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ, যা শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। এর সংক্রমণের হার বা রিপ্রোডাকশন নম্বর (আরও) কোভিডের তুলনায় অনেক বেশি। একজন হাম আক্রান্ত ব্যক্তি ১২ থেকে ১৮ জন সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে পারেন।

হামের চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে তিনি বলেন, হামের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই; মূলত এর ফলে শরীরে সৃষ্ট জটিলতাগুলোর চিকিৎসা করা হয়। হামের কারণে শিশুদের নিউমোনিয়া এবং এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া শিশুর চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে যাওয়া বা আলসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ এবং চোখের বিশেষ মলম ব্যবহার করা হয়। ব্যাকটেরিয়া থেকে অন্য সংক্রমণ দেখা দিলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।

হাম হলে কী করবেন? জেনে রাখা জরুরী

বর্তমানে দেশে-বিদেশে আবারও হাম রোগের প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের মধ্যে বেশি হলেও টিকা না নেওয়া যেকোনো বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন।

🔍 কেন বাড়ছে হামের প্রকোপ?

*টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি
*জনসংখ্যার ঘনত্ব ও দ্রুত সংক্রমণ
*অপুষ্টি ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা
*সচেতনতার অভাব

⚠️ হামের লক্ষণ কী?

হাম সাধারণত কয়েক ধাপে দেখা দেয়—

*প্রথমে: জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া
*৩–৫ দিনের মধ্যে: মুখের ভেতরে সাদা দাগ (কপলিক স্পট)
*পরে: শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়া

❗ জটিলতা কী হতে পারে?

হামকে হালকা রোগ ভাবা ভুল। গুরুতর ক্ষেত্রে—

*নিউমোনিয়া
*ডায়রিয়া
*কানের সংক্রমণ
*এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে

💉 প্রতিরোধের উপায়

সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হলো টিকা—

*এমআর (Measles-Rubella) টিকা সময়মতো নিতে হবে
*শিশুর পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে
*আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা জরুরি

🏥 কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

*৩ দিনের বেশি জ্বর থাকলে
*শ্বাসকষ্ট হলে
*খাওয়াদাওয়া কমে গেলে
*খিঁচুনি বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে

🟡 বিশেষ সতর্কতা

*গর্ভবতী নারী, অপুষ্ট শিশু ও বৃদ্ধদের ঝুঁকি বেশি
*আক্রান্ত এলাকায় ভিড় এড়িয়ে চলা ভালো
*নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি

👉 সংক্ষেপে, হাম প্রতিরোধযোগ্য হলেও অবহেলা করলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই টিকা, সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হাম আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

দেশজুড়ে আবারও হাম সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং সচেতনতার ঘাটতির কারণেই সংক্রমণ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দুই মন্ত্রীকে সারা দেশ ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদীয় কমিটির বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্রিফ করেছে। সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। দুজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন সারা দেশ ঘুরে পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে।’

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর খবর আসছে। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই (রামেক) হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত তিন মাসে ৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, দেশে দীর্ঘ ৮ বছর হামের টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে টিকা সংগ্রহে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক ওষুধশিল্প মেলার উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘মিজেলসের রোগী অনেক বেড়েছে। আট বছর আগে শেষবার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। এরপর আর কোনো সরকার এই টিকা দেয়নি।’

তিনি জানান, ‘ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, পারচেজ কমিটি পাস হয়েছে। খুব দ্রুত আমরা ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হয়। তবে দীর্ঘদিন এই কার্যক্রম স্থবির থাকায় নতুন করে সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরের শুরুতেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের রোগী শনাক্ত হয় এবং ১০ জানুয়ারি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতেও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি- যাদের বড় অংশই হামে আক্রান্ত শিশু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকার ডিএনসিসির ওয়ার্ডগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সংযুক্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেলে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. লুৎফুন্নেসা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ, যা শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। এর সংক্রমণের হার বা রিপ্রোডাকশন নম্বর (আরও) কোভিডের তুলনায় অনেক বেশি। একজন হাম আক্রান্ত ব্যক্তি ১২ থেকে ১৮ জন সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে পারেন।

হামের চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে তিনি বলেন, হামের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই; মূলত এর ফলে শরীরে সৃষ্ট জটিলতাগুলোর চিকিৎসা করা হয়। হামের কারণে শিশুদের নিউমোনিয়া এবং এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া শিশুর চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে যাওয়া বা আলসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ এবং চোখের বিশেষ মলম ব্যবহার করা হয়। ব্যাকটেরিয়া থেকে অন্য সংক্রমণ দেখা দিলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।

হাম হলে কী করবেন? জেনে রাখা জরুরী

বর্তমানে দেশে-বিদেশে আবারও হাম রোগের প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের মধ্যে বেশি হলেও টিকা না নেওয়া যেকোনো বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন।

🔍 কেন বাড়ছে হামের প্রকোপ?

*টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি
*জনসংখ্যার ঘনত্ব ও দ্রুত সংক্রমণ
*অপুষ্টি ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা
*সচেতনতার অভাব

⚠️ হামের লক্ষণ কী?

হাম সাধারণত কয়েক ধাপে দেখা দেয়—

*প্রথমে: জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া
*৩–৫ দিনের মধ্যে: মুখের ভেতরে সাদা দাগ (কপলিক স্পট)
*পরে: শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়া

❗ জটিলতা কী হতে পারে?

হামকে হালকা রোগ ভাবা ভুল। গুরুতর ক্ষেত্রে—

*নিউমোনিয়া
*ডায়রিয়া
*কানের সংক্রমণ
*এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে

💉 প্রতিরোধের উপায়

সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হলো টিকা—

*এমআর (Measles-Rubella) টিকা সময়মতো নিতে হবে
*শিশুর পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে
*আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা জরুরি

🏥 কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

*৩ দিনের বেশি জ্বর থাকলে
*শ্বাসকষ্ট হলে
*খাওয়াদাওয়া কমে গেলে
*খিঁচুনি বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে

🟡 বিশেষ সতর্কতা

*গর্ভবতী নারী, অপুষ্ট শিশু ও বৃদ্ধদের ঝুঁকি বেশি
*আক্রান্ত এলাকায় ভিড় এড়িয়ে চলা ভালো
*নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি

👉 সংক্ষেপে, হাম প্রতিরোধযোগ্য হলেও অবহেলা করলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই টিকা, সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।