কাবিখা প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম, শ্রমিকের বদলে ভেকু
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বরগুনার তালতলী উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পে রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকনির্ভর প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও ভেকু (এস্কেভেটর) দিয়ে কাজ করানো এবং বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য বিক্রির মতো গুরুতর অনিয়মের তথ্য মিলেছে অনুসন্ধানে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন-এর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৩ হাজার ফুট মাটির রাস্তা নির্মাণে সোয়া ৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। চান্দখালী গ্রামের কড়ইতলা ভারানি খালের স্লুইসগেট থেকে মোতাহার মৃধার কালভার্ট পর্যন্ত এই রাস্তার কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম খাঁনকে, যিনি প্রকল্প সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, এ ধরনের প্রকল্পে স্থানীয় দরিদ্র শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমিক নিয়োগ না দিয়ে ভেকু দিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য—দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান—ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান তালুকদারসহ কয়েকজন বলেন,“ভালো রাস্তা কেটে নিচ থেকে মাটি তুলে উপরে দেওয়া হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—প্রকল্পের বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রথম কিস্তির ৩.৩২৫ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে তা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে সেই অর্থ দিয়ে ভেকু ভাড়া করে কাজ চালানো হয়।
এ বিষয়ে পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন টিপু মৃধা বলেন, ‘ইউপি সদস্য ইব্রাহিম খাঁনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আমি কাজ করছি।’
প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম খাঁন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি প্রথম কিস্তির চাল উত্তোলন করে বিক্রি করেছি এবং সেই টাকায় ভেকু দিয়ে কাজ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে কমিশন দিয়ে ভেকুর মাধ্যমে কাজ করে আসছি। নতুন কোনো নিয়ম হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।
পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন মুন্সী বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি ভেকু দিয়ে কাজ করা হয়ে থাকে, তাহলে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।’
তালতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল মাসুম তার সঙ্গে প্রকল্প সভাপতির যোগসাজশ ও কমিশন নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বাংলা টাইমসকে বলেন, ‘কাবিখা প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




















