ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে জ্বালানী তেলের তীব্র সংকট, যানবাহনের দীর্ঘ লাইন

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। উপজেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন পাম্পে ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে, কিন্তু কাঙ্খিত তেল মিলছে না।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরের পর থেকে উপজেলার লক্ষ্মীপুর, পুটকিয়া, বারাইহাট, রাঙামাটি, রাজারামপুর ও তেঁতুলিয়া এলাকার ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহের অপেক্ষায় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ইতঃপূর্বে প্রথম পর্যায়ে ২০০ টাকা এবং আজ শনিবার (২৮ মার্চ) ১০০ টাকার মধ্যে কয়েকটি পাম্পে সীমিত পেট্রোল বিক্রি করা হলেও অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মানুষের ভিড় চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
জরুরি কাজে যাতায়াতেও ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। দ্রæত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলার পাঠকপাড়া গ্রামের মোটরসাইকেল চালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত দুইদিন ধরে পেট্রোলের জন্য এ পাম্প ও পাম্প ঘুরে আজ ফুলবাড়ীর ইসলাম ফিলিং স্টেশন থেকে ১০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছেন। একই দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন মহেশপুর গ্রামের আব্দুর আজিজ, মেলাবাড়ী গ্রামের গোলাম মোস্তফা, গনিপুরের রহমান মিয়াসহ প্রায় প্রত্যেক মোটরসাইকেল চালক।

এদিকে, শহরের বিভিন্ন খোলাবাজারে বাড়তি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফিলিং স্টেশনে তেল না পেলেও খুচরা দোকানে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। বাড়তি দামে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ টাকা ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেক স্থানে প্রতি লিটার পেট্রোল ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দ্রæত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ফুলবাড়ী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. লিটন সরকার বলেন, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) শুধু ৬ হাজার লিটার ডিজেল বরাদ্দ পেয়েছেন, সেই ডিজেল ওইদিনই শেষ হয়ে গেছে। তবে পেট্রোল কিংবা অকটেন এর কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে মর্মে ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সংকটময় মুহূর্তে কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে না পারে সেজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পৃথক পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন। একই সাথে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের পক্ষ থেকেও নজরদারি করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, তেল সংকট কিভাবে নিরসন করা যায় সে বিষয়ে সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাছাড়া প্রত্যেকটি ফিলিং স্টেশন ও অনুমোদিত তেল বিক্রেতাদের ব্যাপারে নজরদারী রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফুলবাড়ীতে জ্বালানী তেলের তীব্র সংকট, যানবাহনের দীর্ঘ লাইন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। উপজেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন পাম্পে ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে, কিন্তু কাঙ্খিত তেল মিলছে না।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরের পর থেকে উপজেলার লক্ষ্মীপুর, পুটকিয়া, বারাইহাট, রাঙামাটি, রাজারামপুর ও তেঁতুলিয়া এলাকার ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহের অপেক্ষায় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ইতঃপূর্বে প্রথম পর্যায়ে ২০০ টাকা এবং আজ শনিবার (২৮ মার্চ) ১০০ টাকার মধ্যে কয়েকটি পাম্পে সীমিত পেট্রোল বিক্রি করা হলেও অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মানুষের ভিড় চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
জরুরি কাজে যাতায়াতেও ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। দ্রæত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলার পাঠকপাড়া গ্রামের মোটরসাইকেল চালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত দুইদিন ধরে পেট্রোলের জন্য এ পাম্প ও পাম্প ঘুরে আজ ফুলবাড়ীর ইসলাম ফিলিং স্টেশন থেকে ১০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছেন। একই দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন মহেশপুর গ্রামের আব্দুর আজিজ, মেলাবাড়ী গ্রামের গোলাম মোস্তফা, গনিপুরের রহমান মিয়াসহ প্রায় প্রত্যেক মোটরসাইকেল চালক।

এদিকে, শহরের বিভিন্ন খোলাবাজারে বাড়তি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফিলিং স্টেশনে তেল না পেলেও খুচরা দোকানে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। বাড়তি দামে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ টাকা ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেক স্থানে প্রতি লিটার পেট্রোল ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দ্রæত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ফুলবাড়ী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. লিটন সরকার বলেন, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) শুধু ৬ হাজার লিটার ডিজেল বরাদ্দ পেয়েছেন, সেই ডিজেল ওইদিনই শেষ হয়ে গেছে। তবে পেট্রোল কিংবা অকটেন এর কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে মর্মে ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সংকটময় মুহূর্তে কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে না পারে সেজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পৃথক পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন। একই সাথে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের পক্ষ থেকেও নজরদারি করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, তেল সংকট কিভাবে নিরসন করা যায় সে বিষয়ে সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাছাড়া প্রত্যেকটি ফিলিং স্টেশন ও অনুমোদিত তেল বিক্রেতাদের ব্যাপারে নজরদারী রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের।