ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালী খুলতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, মাঠে নৌ ড্রোন ‘গার্ক’

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। এরই মধ্যে প্রণালী পুনরায় সচল করতে পারস্য উপসাগরে অত্যাধুনিক নৌ ড্রোন ‘গার্ক’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (সিংহ গর্জন)–এর অংশ হিসেবে চালকবিহীন এই নৌযানগুলো টহল দিচ্ছে। সন্দেহজনক নৌচলাচল নজরদারি এবং প্রয়োজনে আত্মঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে এসব ড্রোনের।

⚠️ সংঘাতের নতুন মাত্রা

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালালে হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। সেই প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অতীতে এমন প্রচেষ্টা ঠেকাতে ইরানি নৌযানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ড্রোন মোতায়েনকে বড় ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ম্যারিল্যান্ডভিত্তিক ‘ব্ল্যাক সি’ সংস্থার তৈরি এই ড্রোন ‘গ্লোবাল অটোনমাস রিকনাইস্যান্স ক্রাফট’ (গার্ক) নামে পরিচিত। ইতোমধ্যে এটি ৪৫০ ঘণ্টার বেশি সময় টহল দিয়েছে এবং প্রায় ২,২০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করেছে।

তবে এখনো পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো হামলায় এই ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেয়নি পেন্টাগন।

🟠 আগের অভিজ্ঞতা ও প্রশ্ন

এই ধরনের ড্রোনের কার্যকারিতা আগে ইউক্রেন যুদ্ধে দেখা গেছে, যেখানে বিস্ফোরকবাহী স্পিডবোট দিয়ে রাশিয়ার নৌবহরে বড় ধরনের ক্ষতি করা হয়েছিল। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও ব্যয় নিয়ে এই প্রযুক্তি নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত প্রযুক্তি হওয়া সত্ত্বেও এসব ড্রোন এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যে একটি ড্রোন অকেজো হয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই নতুন সামরিক পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও বড় বার্তা দিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হরমুজ প্রণালী খুলতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, মাঠে নৌ ড্রোন ‘গার্ক’

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। এরই মধ্যে প্রণালী পুনরায় সচল করতে পারস্য উপসাগরে অত্যাধুনিক নৌ ড্রোন ‘গার্ক’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (সিংহ গর্জন)–এর অংশ হিসেবে চালকবিহীন এই নৌযানগুলো টহল দিচ্ছে। সন্দেহজনক নৌচলাচল নজরদারি এবং প্রয়োজনে আত্মঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে এসব ড্রোনের।

⚠️ সংঘাতের নতুন মাত্রা

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালালে হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। সেই প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অতীতে এমন প্রচেষ্টা ঠেকাতে ইরানি নৌযানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ড্রোন মোতায়েনকে বড় ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ম্যারিল্যান্ডভিত্তিক ‘ব্ল্যাক সি’ সংস্থার তৈরি এই ড্রোন ‘গ্লোবাল অটোনমাস রিকনাইস্যান্স ক্রাফট’ (গার্ক) নামে পরিচিত। ইতোমধ্যে এটি ৪৫০ ঘণ্টার বেশি সময় টহল দিয়েছে এবং প্রায় ২,২০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করেছে।

তবে এখনো পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো হামলায় এই ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেয়নি পেন্টাগন।

🟠 আগের অভিজ্ঞতা ও প্রশ্ন

এই ধরনের ড্রোনের কার্যকারিতা আগে ইউক্রেন যুদ্ধে দেখা গেছে, যেখানে বিস্ফোরকবাহী স্পিডবোট দিয়ে রাশিয়ার নৌবহরে বড় ধরনের ক্ষতি করা হয়েছিল। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও ব্যয় নিয়ে এই প্রযুক্তি নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত প্রযুক্তি হওয়া সত্ত্বেও এসব ড্রোন এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যে একটি ড্রোন অকেজো হয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই নতুন সামরিক পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও বড় বার্তা দিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।