র্যাপার থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
নেপালের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করে দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বলেন্দ্র শাহ (বলেন)। শুক্রবার (স্থানীয় সময়) দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পওডেল। পরে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি।
৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই তাকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি ভারত-নেপাল সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চীনও নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নেপালের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
🟠 নির্বাচনে চমক, পুরনো দলগুলোর ভরাডুবি
গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে নিরঙ্কুশ সাফল্য পায় রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। সরাসরি নির্বাচনে ১৬৫ আসনের মধ্যে ১২৫টি এবং আনুপাতিক পদ্ধতিতে আরও ৫৭টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথ সুগম করে দলটি।
নির্বাচনের শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, নেপালের পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আস্থা হারিয়ে নতুন শক্তির দিকে ঝুঁকছেন ভোটাররা।
⚡ র্যাপার থেকে প্রধানমন্ত্রী
রাজধানী কাঠমান্ডুতে জন্ম নেওয়া বলেন্দ্র শাহ একসময় র্যাপ গায়ক হিসেবে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০২২ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন। পরে ২০২৫ সালে আরএসপি-তে যোগ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে ঝাপা-৬ আসনে প্রার্থী হয়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি-কে পরাজিত করেন, যা রাজনৈতিক মহলে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
🟡 চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন নেতৃত্ব
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নেন বলেন্দ্র। প্রাথমিকভাবে তিনি প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজের হাতে রেখেছেন। নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন শিশির খানাল এবং অর্থমন্ত্রী করা হয়েছে স্বর্ণিম ওয়াগলে-কে।
তবে তার সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভোগা নেপালে ১৯৯০ সালের পর থেকে একাধিকবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। অভিজ্ঞ পুরনো দলগুলোর চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিলতা সামাল দিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বড় পরীক্ষা।





















