ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সড়কে নিভে গেল মুফতি মমিনের পরিবার

একই কবরস্থানে চারজনের দাফন

নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদের আনন্দ শেষে ফেরার পথেই নিভে গেল একটি পরিবারের চারটি প্রাণ। কুমিল্লায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মুফতি আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিহত হয়েছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জুড়ে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তিতারকান্দি গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারজনকে দাফন করা হয়। এর আগে স্থানীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। একসাথে চারজনের জানাজা ও দাফনের দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মমিন ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি ছিলেন। ঈদের ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে গ্রামে এসেছিলেন। ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে কুমিল্লার মিয়ামি হোটেল এলাকায় একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস তাদের প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই গাড়িচালক নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মুফতি মমিন, তার স্ত্রী ঝরনা বেগম, ছেলে সাইদ আশরাদ ও মেয়ে লাবিবাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। তবে ১২ বছর বয়সী আরেক ছেলে আবরার গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যায়। বর্তমানে সে চিকিৎসা শেষে নানাবাড়িতে রয়েছে। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে সে গভীর মানসিক আঘাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

নিহতের স্বজনরা জানান, একটি সুখী পরিবার মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা নিহতের স্বজনদের বাড়ি পরিদর্শন করে শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তাৎক্ষণিক দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেন এবং ভবিষ্যতে ৫ লাখ টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সড়কে নিভে গেল মুফতি মমিনের পরিবার

একই কবরস্থানে চারজনের দাফন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ঈদের আনন্দ শেষে ফেরার পথেই নিভে গেল একটি পরিবারের চারটি প্রাণ। কুমিল্লায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মুফতি আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিহত হয়েছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জুড়ে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তিতারকান্দি গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারজনকে দাফন করা হয়। এর আগে স্থানীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। একসাথে চারজনের জানাজা ও দাফনের দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মমিন ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি ছিলেন। ঈদের ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে গ্রামে এসেছিলেন। ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে কুমিল্লার মিয়ামি হোটেল এলাকায় একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস তাদের প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই গাড়িচালক নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মুফতি মমিন, তার স্ত্রী ঝরনা বেগম, ছেলে সাইদ আশরাদ ও মেয়ে লাবিবাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। তবে ১২ বছর বয়সী আরেক ছেলে আবরার গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যায়। বর্তমানে সে চিকিৎসা শেষে নানাবাড়িতে রয়েছে। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে সে গভীর মানসিক আঘাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

নিহতের স্বজনরা জানান, একটি সুখী পরিবার মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা নিহতের স্বজনদের বাড়ি পরিদর্শন করে শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তাৎক্ষণিক দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেন এবং ভবিষ্যতে ৫ লাখ টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।