ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা স্থগিত ১০ দিন

কৌশল বদলাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, নাকি শান্তির ইঙ্গিত?

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের জ্বালানিকেন্দ্রে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সময়সীমা ৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ১০ দিনে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে আগামী ৬ এপ্রিল (সোমবার) রাত ৮টা পর্যন্ত (ইরানি সময়) ইরানে কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র।

২৩ মার্চ প্রথমে পাঁচ দিনের বিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে শুক্রবার (২৭ মার্চ) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরান সরকারের অনুরোধে এই সময়সীমা আরও পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে।

তিনি লেখেন, “ইরানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে জ্বালানিকেন্দ্রে হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখছি, যা ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।”

এদিকে, সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পর্দার আড়ালে শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা চলছে এবং তা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।

🟠 যুদ্ধবিরতির আড়ালে কূটনীতি, নাকি চাপের কৌশল?

মঙ্গলবার ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান ‘সমঝোতার জন্য মরিয়া’ এবং তারা নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে “একটি বড় উপহার” পাঠিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৫ দফা শর্তের প্রস্তাব সামনে এসেছে। তবে সেই শর্ত ইরান মানবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। সূত্র বলছে, ইরান পাঁচ বছরের জন্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে। তবুও শর্ত-পাল্টা শর্তে পরিস্থিতি এখনো জটিল।

⚠️ পটভূমি: ভয়াবহ সংঘাত, হাজারো প্রাণহানি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি।

এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, সিরিয়া ও তুরস্কে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

চলমান এই যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই দুই হাজার ছাড়িয়েছে। যদিও রাশিয়া, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিয়েছে, এখনো কোনো পক্ষই সরাসরি যুদ্ধ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি।

১০ দিনের এই বিরতি কি সত্যিই শান্তির পথ খুলবে, নাকি এটি কৌশলগত বিরতি—এ প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইরানে হামলা স্থগিত ১০ দিন

কৌশল বদলাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, নাকি শান্তির ইঙ্গিত?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের জ্বালানিকেন্দ্রে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সময়সীমা ৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ১০ দিনে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে আগামী ৬ এপ্রিল (সোমবার) রাত ৮টা পর্যন্ত (ইরানি সময়) ইরানে কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র।

২৩ মার্চ প্রথমে পাঁচ দিনের বিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে শুক্রবার (২৭ মার্চ) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরান সরকারের অনুরোধে এই সময়সীমা আরও পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে।

তিনি লেখেন, “ইরানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে জ্বালানিকেন্দ্রে হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখছি, যা ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।”

এদিকে, সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পর্দার আড়ালে শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা চলছে এবং তা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।

🟠 যুদ্ধবিরতির আড়ালে কূটনীতি, নাকি চাপের কৌশল?

মঙ্গলবার ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান ‘সমঝোতার জন্য মরিয়া’ এবং তারা নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে “একটি বড় উপহার” পাঠিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৫ দফা শর্তের প্রস্তাব সামনে এসেছে। তবে সেই শর্ত ইরান মানবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। সূত্র বলছে, ইরান পাঁচ বছরের জন্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে। তবুও শর্ত-পাল্টা শর্তে পরিস্থিতি এখনো জটিল।

⚠️ পটভূমি: ভয়াবহ সংঘাত, হাজারো প্রাণহানি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি।

এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, সিরিয়া ও তুরস্কে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

চলমান এই যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই দুই হাজার ছাড়িয়েছে। যদিও রাশিয়া, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিয়েছে, এখনো কোনো পক্ষই সরাসরি যুদ্ধ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি।

১০ দিনের এই বিরতি কি সত্যিই শান্তির পথ খুলবে, নাকি এটি কৌশলগত বিরতি—এ প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।