ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাড়ি ফেরা, পথজুড়ে ক্লান্তি আর অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রিয়জনদের কাছে ফেরার আকাঙ্ক্ষা যেন সব কষ্টকে হার মানায়। তবুও সেই পথটা সহজ নয়—যানজট, ভিড় আর দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্য দিয়েই রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন হাজারো মানুষ। আনন্দ আর ভোগান্তি—দুই বিপরীত অনুভূতি নিয়েই চলছে এবারের ঈদযাত্রা।

কয়েকদিন ধরেই মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন, তবে ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই স্রোত এখন আরও তীব্র। মহাসড়কে যানজট যেন যাত্রীদের ধৈর্যের বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ যানজটে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বাসগুলো পৌঁছাতে দেরি করছে, ফলে ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তায় সময় পার করছেন যাত্রীরা।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীরা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আশায় সব কষ্ট ভুলে যাত্রা করছেন। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের কড়াকড়ি নজরদারিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও, যাত্রীদের চাপ কমেনি একটুও।

অন্যদিকে রেলস্টেশনগুলোতে দেখা গেছে জনসমুদ্র। উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ এতটাই বেশি যে, অনেকেই বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে উঠছেন—যা বাড়িয়ে দিচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। নীলসাগর এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনার প্রভাবে কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যস্ত হওয়ায় যাত্রীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়েছে।

বাস টার্মিনালগুলোতেও একই চিত্র—ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তবুও নিশ্চিত যাত্রার নিশ্চয়তা নেই। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে যানজট থাকলেও দুপুরের পর কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। গাজীপুর এলাকাতেও যান চলাচল ছিল ধীরগতির।

এদিকে বাসভাড়া নিয়ে যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত নন সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দে বাড়ি ফেরার এই যাত্রা যেমন আবেগে ভরা, তেমনি বাস্তবতার কঠিন চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট। তবুও প্রিয়জনের মুখ দেখার আকাঙ্ক্ষাই যেন সব কষ্টকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাড়ি ফেরা, পথজুড়ে ক্লান্তি আর অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রিয়জনদের কাছে ফেরার আকাঙ্ক্ষা যেন সব কষ্টকে হার মানায়। তবুও সেই পথটা সহজ নয়—যানজট, ভিড় আর দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্য দিয়েই রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন হাজারো মানুষ। আনন্দ আর ভোগান্তি—দুই বিপরীত অনুভূতি নিয়েই চলছে এবারের ঈদযাত্রা।

কয়েকদিন ধরেই মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন, তবে ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই স্রোত এখন আরও তীব্র। মহাসড়কে যানজট যেন যাত্রীদের ধৈর্যের বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ যানজটে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বাসগুলো পৌঁছাতে দেরি করছে, ফলে ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তায় সময় পার করছেন যাত্রীরা।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীরা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আশায় সব কষ্ট ভুলে যাত্রা করছেন। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের কড়াকড়ি নজরদারিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও, যাত্রীদের চাপ কমেনি একটুও।

অন্যদিকে রেলস্টেশনগুলোতে দেখা গেছে জনসমুদ্র। উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ এতটাই বেশি যে, অনেকেই বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে উঠছেন—যা বাড়িয়ে দিচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। নীলসাগর এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনার প্রভাবে কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যস্ত হওয়ায় যাত্রীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়েছে।

বাস টার্মিনালগুলোতেও একই চিত্র—ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তবুও নিশ্চিত যাত্রার নিশ্চয়তা নেই। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে যানজট থাকলেও দুপুরের পর কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। গাজীপুর এলাকাতেও যান চলাচল ছিল ধীরগতির।

এদিকে বাসভাড়া নিয়ে যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত নন সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দে বাড়ি ফেরার এই যাত্রা যেমন আবেগে ভরা, তেমনি বাস্তবতার কঠিন চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট। তবুও প্রিয়জনের মুখ দেখার আকাঙ্ক্ষাই যেন সব কষ্টকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।