ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাতারবাড়ির আগুন—রাতজুড়ে আতঙ্ক, অপেক্ষা আর অজানা শঙ্কা

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতটা ছিল বেশ শান্ত। সমুদ্রের বাতাস, দূরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আলো—সবকিছুই যেন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু রাত ৮টার পরপরই সেই স্বাভাবিকতার ভিতর হঠাৎ আগুনের অজানা লাল আলো দেখা যায়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন, আর সেই আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

কেউ প্রথম আগুন দেখেছিল? সম্ভবত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকরাই। কেউ কেউ ভয় পেয়ে ফোন ধরেছেন, আবার কেউ দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে—“ভিতরে কি হচ্ছে?”, “কেউ আটকা পড়েছে কি?”, “কেন আগুন লাগল?”—যেন রাতটা একেকটা প্রশ্নে ভারী হয়ে ওঠে।

ফায়ার সার্ভিস প্রথমে একটি ইউনিট পাঠায়। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে আরও ইউনিট মহেশখালী আর চকরিয়া থেকে রওনা হয়। রাস্তায় সাইরেনের শব্দ তখন রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে মানুষকে জানান দিচ্ছিল—বিপদ সত্যি।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য শুধু নিশ্চিত করেছেন ঘটনাটা। তার কণ্ঠেও ছিল দায়িত্ব আর সতর্কতা—“স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লেগেছে… ইউনিটগুলো যাচ্ছে।” কিন্তু কারণ? সে উত্তর তার কাছেও নেই।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন ধরছিলেন না। ফ্যাক্টরির বড় লোহার গেট, উঁচু টাওয়ার… আর গেটের বাইরে দাঁড়ানো কৌতূহলী মানুষের চোখে তখন একটাই প্রশ্ন—“ভিতরে কী হচ্ছে?”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম ঘটনাটা নিশ্চিত করেছেন, এবং তিনিও ছুটে গেছেন কেন্দ্রের দিকে। তার গাড়ির হেডলাইট রাতের অন্ধকারে যেন বলে দিচ্ছিল—প্রশাসন পরিস্থিতি জানতে চায়, নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়।

আর রাত বাড়ছে… আগুন এখনও পুরোপুরি নিভেনি। কারণ এখনও অজানা। ক্ষয়ক্ষতি এখনও অজানা। কিন্তু আতঙ্ক? সেটা এলাকায় ছড়িয়ে গেছে নিশ্চিতভাবেই।

মাতারবাড়ির এই রাত মানুষ মনে রাখবে—এক রাত আগুনের, জরুরি সাইরেনের, অপেক্ষার, আর ভয় আর প্রশ্নে ভরা অস্থিরতার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মাতারবাড়ির আগুন—রাতজুড়ে আতঙ্ক, অপেক্ষা আর অজানা শঙ্কা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতটা ছিল বেশ শান্ত। সমুদ্রের বাতাস, দূরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আলো—সবকিছুই যেন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু রাত ৮টার পরপরই সেই স্বাভাবিকতার ভিতর হঠাৎ আগুনের অজানা লাল আলো দেখা যায়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন, আর সেই আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

কেউ প্রথম আগুন দেখেছিল? সম্ভবত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকরাই। কেউ কেউ ভয় পেয়ে ফোন ধরেছেন, আবার কেউ দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে—“ভিতরে কি হচ্ছে?”, “কেউ আটকা পড়েছে কি?”, “কেন আগুন লাগল?”—যেন রাতটা একেকটা প্রশ্নে ভারী হয়ে ওঠে।

ফায়ার সার্ভিস প্রথমে একটি ইউনিট পাঠায়। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে আরও ইউনিট মহেশখালী আর চকরিয়া থেকে রওনা হয়। রাস্তায় সাইরেনের শব্দ তখন রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে মানুষকে জানান দিচ্ছিল—বিপদ সত্যি।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য শুধু নিশ্চিত করেছেন ঘটনাটা। তার কণ্ঠেও ছিল দায়িত্ব আর সতর্কতা—“স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লেগেছে… ইউনিটগুলো যাচ্ছে।” কিন্তু কারণ? সে উত্তর তার কাছেও নেই।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন ধরছিলেন না। ফ্যাক্টরির বড় লোহার গেট, উঁচু টাওয়ার… আর গেটের বাইরে দাঁড়ানো কৌতূহলী মানুষের চোখে তখন একটাই প্রশ্ন—“ভিতরে কী হচ্ছে?”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম ঘটনাটা নিশ্চিত করেছেন, এবং তিনিও ছুটে গেছেন কেন্দ্রের দিকে। তার গাড়ির হেডলাইট রাতের অন্ধকারে যেন বলে দিচ্ছিল—প্রশাসন পরিস্থিতি জানতে চায়, নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়।

আর রাত বাড়ছে… আগুন এখনও পুরোপুরি নিভেনি। কারণ এখনও অজানা। ক্ষয়ক্ষতি এখনও অজানা। কিন্তু আতঙ্ক? সেটা এলাকায় ছড়িয়ে গেছে নিশ্চিতভাবেই।

মাতারবাড়ির এই রাত মানুষ মনে রাখবে—এক রাত আগুনের, জরুরি সাইরেনের, অপেক্ষার, আর ভয় আর প্রশ্নে ভরা অস্থিরতার।