ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হবে আরাফাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লাখো কণ্ঠে আরাফাতের ময়দানে আজ বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ধ্বনিত হবে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’ অর্থাৎ ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’

বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন সারা বিশ্ব থেকে জড়ো হওয়া লাখো মুসলমান। হাদিসের ভাষ্য মতে, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

এর আগে বুধবার মিনায় অবস্থান করেন হজযাত্রীরা। সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরে হজের নিয়ত করে তাঁরা মক্কা থেকে মিনায় আসেন। মিনায় নিজ নিজ তাঁবুর মধ্যে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করেছেন। আজ ফজরের নামাজ পড়েই তাঁরা চলে আসেন আরাফাতের ময়দানে।

পবিত্র হজ মহান আল্লাহর একটি বিশেষ বিধান। ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হজ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান সব মুসলমান পুরুষ ও নারীর ওপর হজ ফরজ।

মক্কা থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বে আরাফাতের ময়দানের অবস্থান। তা দৈর্ঘ্যে দুই কিলোমিটার এবং প্রস্থেও দুই কিলোমিটার। এই ময়দানের তিন দিক পাহাড়বেষ্টিত। এখানে রয়েছে জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়। এই ময়দানে উপস্থিত হাজিদের উদ্দেশে খুতবা দেওয়া সুন্নত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এখানকার মসজিদে নামিরা থেকে বিখ্যাত বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

আরাফাতের ময়দান থেকে মুসলিমদের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও শান্তির বার্তা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ আরাফাতের দিন ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা দেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বিন পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলাম তোমাদের দ্বিন মনোনীত করলাম।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৩)

এদিকে আজ আরাফার মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা দেবেন পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ; যা সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় খুতবার অনুবাদ সম্প্রচারের অংশ হিসেবে টানা ষষ্ঠবারের মতো এবার বাংলাসহ প্রায় ৩৪টি ভাষায় আরাফার খুতবা সম্প্রচার করা হবে। এ বছর খুতবার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করবেন মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান।

হজের অংশ হিসেবে জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ—এই পাঁচ দিনে মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও মক্কায় অবস্থান করে হজযাত্রীরা হজের কার্যক্রম পালন করবেন। এর মধ্যে আজ (স্থানীয় সময় ৯ জিলহজ) আরাফাতের ময়দানে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে পড়বেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া-মোনাজাতে মগ্ন থাকবেন। সূর্যাস্তের পর সবাই আরাফাত থেকে ৯ কিলোমিটার দূরত্বে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়ে রাত্রি যাপন করবেন। এরপর মুজদালিফা থেকে তিন জামারার জন্য তাঁরা পাথর সংগ্রহ করবেন।

শুক্রবার (স্থানীয় সময় ১০ জিলহজ) মিনায় বড় জামারায় গিয়ে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর কোরবানি করে মাথা মুণ্ডাবেন। তখন ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করে স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাঈ (সাতবার দৌড়ানো) করবেন। সেখান থেকে তাঁরা আবার মিনায় ফিরে যাবেন।

সেখানে তাঁরা দুই দিন বা তিন দিন (১১ থেকে ১২ বা ১৩ জিলহজ) জামারায় (বড়, মধ্যম, ছোট) সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মক্কায় বিদায়ি তাওয়াফ করে হজের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিভিন্ন দেশের ১৫ লাখের বেশি মুসলিম হজ পালন করছেন। বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৮৬ হাজার ৯৫৮।

বাংলাদেশ সরকারের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টাল সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এরই মধ্যে মক্কা ও মদিনায় ১৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ৩২ জন ভর্তি রয়েছেন। গত ২৯ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ, সৌদি এয়ারলাইনস ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২৪টি ফ্লাইটে বাংলাদেশি হজযাত্রীরা সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট আগামী ১০ জুন থেকে শুরু হয়ে ১০ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হবে আরাফাত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫

লাখো কণ্ঠে আরাফাতের ময়দানে আজ বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ধ্বনিত হবে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’ অর্থাৎ ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’

বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন সারা বিশ্ব থেকে জড়ো হওয়া লাখো মুসলমান। হাদিসের ভাষ্য মতে, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

এর আগে বুধবার মিনায় অবস্থান করেন হজযাত্রীরা। সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরে হজের নিয়ত করে তাঁরা মক্কা থেকে মিনায় আসেন। মিনায় নিজ নিজ তাঁবুর মধ্যে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করেছেন। আজ ফজরের নামাজ পড়েই তাঁরা চলে আসেন আরাফাতের ময়দানে।

পবিত্র হজ মহান আল্লাহর একটি বিশেষ বিধান। ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হজ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান সব মুসলমান পুরুষ ও নারীর ওপর হজ ফরজ।

মক্কা থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বে আরাফাতের ময়দানের অবস্থান। তা দৈর্ঘ্যে দুই কিলোমিটার এবং প্রস্থেও দুই কিলোমিটার। এই ময়দানের তিন দিক পাহাড়বেষ্টিত। এখানে রয়েছে জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়। এই ময়দানে উপস্থিত হাজিদের উদ্দেশে খুতবা দেওয়া সুন্নত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এখানকার মসজিদে নামিরা থেকে বিখ্যাত বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

আরাফাতের ময়দান থেকে মুসলিমদের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও শান্তির বার্তা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ আরাফাতের দিন ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা দেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বিন পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলাম তোমাদের দ্বিন মনোনীত করলাম।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৩)

এদিকে আজ আরাফার মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা দেবেন পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ; যা সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় খুতবার অনুবাদ সম্প্রচারের অংশ হিসেবে টানা ষষ্ঠবারের মতো এবার বাংলাসহ প্রায় ৩৪টি ভাষায় আরাফার খুতবা সম্প্রচার করা হবে। এ বছর খুতবার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করবেন মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান।

হজের অংশ হিসেবে জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ—এই পাঁচ দিনে মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও মক্কায় অবস্থান করে হজযাত্রীরা হজের কার্যক্রম পালন করবেন। এর মধ্যে আজ (স্থানীয় সময় ৯ জিলহজ) আরাফাতের ময়দানে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে পড়বেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া-মোনাজাতে মগ্ন থাকবেন। সূর্যাস্তের পর সবাই আরাফাত থেকে ৯ কিলোমিটার দূরত্বে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়ে রাত্রি যাপন করবেন। এরপর মুজদালিফা থেকে তিন জামারার জন্য তাঁরা পাথর সংগ্রহ করবেন।

শুক্রবার (স্থানীয় সময় ১০ জিলহজ) মিনায় বড় জামারায় গিয়ে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর কোরবানি করে মাথা মুণ্ডাবেন। তখন ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করে স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাঈ (সাতবার দৌড়ানো) করবেন। সেখান থেকে তাঁরা আবার মিনায় ফিরে যাবেন।

সেখানে তাঁরা দুই দিন বা তিন দিন (১১ থেকে ১২ বা ১৩ জিলহজ) জামারায় (বড়, মধ্যম, ছোট) সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মক্কায় বিদায়ি তাওয়াফ করে হজের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিভিন্ন দেশের ১৫ লাখের বেশি মুসলিম হজ পালন করছেন। বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৮৬ হাজার ৯৫৮।

বাংলাদেশ সরকারের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টাল সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এরই মধ্যে মক্কা ও মদিনায় ১৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ৩২ জন ভর্তি রয়েছেন। গত ২৯ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ, সৌদি এয়ারলাইনস ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২৪টি ফ্লাইটে বাংলাদেশি হজযাত্রীরা সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট আগামী ১০ জুন থেকে শুরু হয়ে ১০ জুলাই পর্যন্ত চলবে।