চেনা রুপে ফিরেছে বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলো

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ ১১ বার পড়া হয়েছে
আকাশ ছোয়া পাহাড় আর অরন্যের মিলন মেলা,এ যেন অপরুপ লীলাভূমি। দেশী বিদেশী পর্যটকদের পদচারনায় মুখর পার্বত্য জেলা বানন্দরবান। নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা ভূলে ঈদের ছুটি কাটতে পাহাড়ে এসেছেন দর্শনার্থীরা। দিন রাত পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমন পিপাসু মানুষ। হোটেল মোটেল গুলোতে উপচে পড়া ভীর। ঈদের লম্বা ছুটি কাটাতে বান্দরবানে ভীড় জমিয়েছে অসংখ্য পর্যটক। দীর্ঘ দিন পর চেনা রুপে ফিরেছে পর্যটন নগরী বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র গুলো।
বিস্তীর্ণ পাহাড়, আকাশ ও মেঘের মিতালী, হাতের নাগালে অনায়সে মেঘের ছোঁয়া পেতে বিভিন্ন ঝিড়ি ঝর্ণা-রিজুকসহ অসংখ্য ঝর্ণাধারা, মেঘলার ঝুলন্ত সেতু, নজরকাড়া-মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পটগুলো প্রকৃতি প্রেমীদের সহজেই কাছে টানছে।
এদিকে, বান্দরবান শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১৬০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় নীলাচল যেন পর্যটকদের কাছে বাংলার দার্জিলিং। দীর্ঘ দিন পর চেনা রুপে ফিরেছে পর্যটন নগরী বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র গুলো। ভ্রমন প্রেমীরা বাংলার দার্জিলিং খ্যাত নীলাচলসহ জেলার সব কয়টি পর্যটন কেন্দ্রে উপভোগ করছেন ঈদের ছুটি।শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে অবকাশ যাপনে পর্যটকরা এখন ভিড় করছে বান্দরবানের দর্শণীয় স্থান গুলোতে। মেঘলা নীলাচল চিম্বুক তমা তুঙ্গী নীলগিরি শৈলপ্রপাত দেবতাকুম নাফাকুম রেমাক্রীসহ সব গুলো পর্যটন কেন্দ্রে এখন পর্যটকের ভিড়। সকাল থেকে পর্যটকরা পরিবার পরিজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে চাঁদের গাড়ীতে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে একপাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে।

কেউ বা ছুটে যাচ্ছে ঝর্ণার পানিতে গা ভেজাতে কেউ বা যাচ্ছে পাহাড়ের চুড়ায় মেঘ ধরতে আবার কেউ বা যাচ্ছে পাহাড়ী পল্লী গুলোতে উপজাতীয়দের জীবন ধারা উপভোগ করতে। আর মনোমুগ্ধকর এ দৃশ্যগুলো স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে কেউ কেউ চলন্ত মেঘের সাথে নিজেকে ক্যামেরা বন্দী করছে কেউ বা ঝরণার পানির সাথে নিজেকে ক্যামেরা বন্দী করছে কেউ বা উপজাতীয়দের তৈরী পোষাকে নিজেকে ক্যামেরা বন্দী করছে এককথায় নগর জীবনের ব্যস্ততা ভুলে পর্যটকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগে।
অন্যদিকে, ভ্রমণে আসা পর্যটকদের জানান,পাহাড় প্রকৃতি আর মেঘের অপরূপ জেলা বান্দরবান। বাংলাদেশে যে কয়েকটি পর্যটন এলাকা রয়েছে তার মধ্যে বান্দরবান অন্যতম। বান্দরবানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস আর তার সঙ্গে প্রকৃতির রূপ যে কাউকে সহজেই মুগ্ধ করে।তবে বান্দরবান ভ্রমন না আসলে ঈদ যাত্রাটা অপুর্ণ থাকে তাই বান্দরবানের পাহাড় ঘুরে আনন্দ পেলাম এমটাই বল্লেন ভ্রমনে আসা পর্যটককেরা। জেলায় পর্যটকদের সেবায় রয়েছে শতাধিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গেস্ট হাউস এছাড়াও পর্যটক পরিবহনে রয়েছে ৫ শতাধিক চাঁদের গাড়ী, সব মিলিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জেলার ৩০ হাজার মানুষ পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ঠ।
অপরদিকে, ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক সৈকত কুমার রায় বলেন,সদস্যরা ও নিয়মিত নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন।তবে বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাতে নিরাপদে নির্বিঘ্নে পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারে সেজন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহনের কথা জানান টুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা।
বান্দরবান প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, পর্যটকরা যেন নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে বান্দরবান প্রশাসন।
তিনি আরও বলেন,বান্দরবান একটি পর্যটন জেলা। আর এই জেলাতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাতে নিরাপত্তার সঙ্গে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা ও নিয়মিত নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন।