ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারের মতো বাংলাদেশেও বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা, সতর্ক থাকার অনুরোধ

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫ ২৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। ভৌগোলিক কারণেই এই ঝুঁকির আশঙ্কা। কম মাত্রার একাধিক ভূমিকম্প দিন দিন বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা প্রকট করে তুলছে। জানা গেছে, উপরিতলের বাংলাদেশ সমতল ভূমি হলেও টেকটোনিক প্লেটের হিসেবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত শস্য-শ্যামল এই সমতল ভূমি। রয়েছে একাধিক ফল্টও।

গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকম্প সক্রিয় ফল্টসমূহ:

মধুপুর ফল্ট: বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত, যা শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

ডাউকি ফল্ট: ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশ থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত, ভূমিকম্পের অন্যতম প্রধান কারণ।

চট্টগ্রামের টেকটোনিক মুভমেন্ট: যা দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এদিকে, শুক্রবার (২৮ মার্চ) মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে পর পর দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুইটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.৭ ও ৬.৪। বাংলাদেশেও একই মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে পরপর তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

৩ জানুয়ারি: রাত ১১টা ৫ মিনিটে ভারতের আসামে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প, গভীরতা ১০ কিলোমিটার। ৪ জানুয়ারি: সকাল ৭টা ২৮ মিনিটে মিয়ানমার-চীন সীমান্তে ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প।

এছাড়া ৭ জানুয়ারি: সকাল ৭টা ৫ মিনিটে চীনের জিজাং অঞ্চলে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, যা বাংলাদেশেও অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধুপুর ফল্ট, ডাউকি ফল্ট এবং চট্টগ্রামের টেকটোনিক মুভমেন্টের কারণে দেশে ৭.৫ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (২৯মার্চ) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষত চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা অঞ্চল ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এমতাবস্থায় ওই বিজ্ঞপ্তিতে ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য সকল পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ ও সচেতনতা তৈরিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

ফায়ার সর্ভিসের দেওয়া নির্দেশনাগুলো হলো: (১) বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ অনুযায়ী ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ করা; (২) ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবনগুলোর সংস্কার ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা; (৩) সকল বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা; (৪) ইউটিলিটি সার্ভিসসমূহ যথা গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইনের সঠিকতা নিশ্চিত করা; (৫) ভূমিকম্প চলাকালীন সময়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি পর্যায়ে বিভিন্ন করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত মহড়া অনুশীলন ও প্রচারের ব্যবস্থা করা; (৬) জরুরি টেলিফোন নম্বর যেমন ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, হাসাপাতাল ও অন্যান্য জরুরি নাম্বারসমূহ ব্যক্তিগত পর্যায়ের পাশাপাশি সকল ভবন বা স্থাপনায় সংরক্ষণ করা এবং তা দৃশ্যমান স্থানে লিখে রাখা; (৭) ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দুর্যোগকালীন সময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা; (৮) জরুরি প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সরঞ্জামাদি যেমন- টর্চলাইট, রেডিও (অতিরিক্ত ব্যাটারিসহ), বাঁশি, হ্যামার, হেলমেট/কুশন, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী, ফার্স্ট এইড বক্স, শিশু যত্নের সামগ্রী ইত্যাদি বাসা-বাড়িতে নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ করা যাতে ভূমিকম্প পরবর্তীতে আটকা পরলে তা ব্যবহার করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা যায় এবং (৯) সকল পর্যায়ে তদারকি সংস্থার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা।

এছাড়াও যেকোনো তথ্যের জরুরি প্রয়োজনে ০১৭২২৮৫৬৮৬৭ মোবাইল নাম্বার ও ১০২ হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প হয়েছে। ১৮৯৭: শিলং প্লেটের ভূমিকম্প (৮.৪ মাত্রা), যা ঢাকাসহ বিশাল অঞ্চলে প্রভাব ফেলে।

১৯৯৭: চট্টগ্রামে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় ফাটল সৃষ্টি করে। ২০২৩: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মিয়ানমারের মতো বাংলাদেশেও বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা, সতর্ক থাকার অনুরোধ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫

বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। ভৌগোলিক কারণেই এই ঝুঁকির আশঙ্কা। কম মাত্রার একাধিক ভূমিকম্প দিন দিন বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা প্রকট করে তুলছে। জানা গেছে, উপরিতলের বাংলাদেশ সমতল ভূমি হলেও টেকটোনিক প্লেটের হিসেবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত শস্য-শ্যামল এই সমতল ভূমি। রয়েছে একাধিক ফল্টও।

গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকম্প সক্রিয় ফল্টসমূহ:

মধুপুর ফল্ট: বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত, যা শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

ডাউকি ফল্ট: ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশ থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত, ভূমিকম্পের অন্যতম প্রধান কারণ।

চট্টগ্রামের টেকটোনিক মুভমেন্ট: যা দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এদিকে, শুক্রবার (২৮ মার্চ) মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে পর পর দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুইটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.৭ ও ৬.৪। বাংলাদেশেও একই মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে পরপর তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

৩ জানুয়ারি: রাত ১১টা ৫ মিনিটে ভারতের আসামে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প, গভীরতা ১০ কিলোমিটার। ৪ জানুয়ারি: সকাল ৭টা ২৮ মিনিটে মিয়ানমার-চীন সীমান্তে ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প।

এছাড়া ৭ জানুয়ারি: সকাল ৭টা ৫ মিনিটে চীনের জিজাং অঞ্চলে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, যা বাংলাদেশেও অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধুপুর ফল্ট, ডাউকি ফল্ট এবং চট্টগ্রামের টেকটোনিক মুভমেন্টের কারণে দেশে ৭.৫ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (২৯মার্চ) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষত চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা অঞ্চল ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এমতাবস্থায় ওই বিজ্ঞপ্তিতে ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য সকল পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ ও সচেতনতা তৈরিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

ফায়ার সর্ভিসের দেওয়া নির্দেশনাগুলো হলো: (১) বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ অনুযায়ী ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ করা; (২) ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবনগুলোর সংস্কার ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা; (৩) সকল বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা; (৪) ইউটিলিটি সার্ভিসসমূহ যথা গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইনের সঠিকতা নিশ্চিত করা; (৫) ভূমিকম্প চলাকালীন সময়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি পর্যায়ে বিভিন্ন করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত মহড়া অনুশীলন ও প্রচারের ব্যবস্থা করা; (৬) জরুরি টেলিফোন নম্বর যেমন ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, হাসাপাতাল ও অন্যান্য জরুরি নাম্বারসমূহ ব্যক্তিগত পর্যায়ের পাশাপাশি সকল ভবন বা স্থাপনায় সংরক্ষণ করা এবং তা দৃশ্যমান স্থানে লিখে রাখা; (৭) ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দুর্যোগকালীন সময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা; (৮) জরুরি প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সরঞ্জামাদি যেমন- টর্চলাইট, রেডিও (অতিরিক্ত ব্যাটারিসহ), বাঁশি, হ্যামার, হেলমেট/কুশন, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী, ফার্স্ট এইড বক্স, শিশু যত্নের সামগ্রী ইত্যাদি বাসা-বাড়িতে নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ করা যাতে ভূমিকম্প পরবর্তীতে আটকা পরলে তা ব্যবহার করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা যায় এবং (৯) সকল পর্যায়ে তদারকি সংস্থার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা।

এছাড়াও যেকোনো তথ্যের জরুরি প্রয়োজনে ০১৭২২৮৫৬৮৬৭ মোবাইল নাম্বার ও ১০২ হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প হয়েছে। ১৮৯৭: শিলং প্লেটের ভূমিকম্প (৮.৪ মাত্রা), যা ঢাকাসহ বিশাল অঞ্চলে প্রভাব ফেলে।

১৯৯৭: চট্টগ্রামে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় ফাটল সৃষ্টি করে। ২০২৩: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।