ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাবনায় অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ২ জনের দণ্ড ফ্রিজের ওপর রাখবেন না এই ৩ জিনিস, সতর্ক করছেন বাস্তুবিদরা ইরানের নিশানায় মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি, ‘হিট লিস্টে’ মাইক্রোসফ্‌ট, গুগলসহ ১৮ কোম্পানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ শিবিরের সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে মাঠে সক্রিয় থাকবে ছাত্রশিবির: নূরুল ইসলাম তরুণদের রাজনৈতিক বলয়ে আবদ্ধ করা ঠিক নয় : পার্থ বিতর্কিত বক্তব্যে ক্ষোভ: হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতারণার দলিল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি টিন পেতে এক ছবিতে ৭০০ আবেদন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ শিবিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা মহানগরসহ দেশের সকল মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন এবং ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে হলেও নিয়মিত সশরীরে পাঠদান সচল রাখার জোর দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ সব মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অদূরদর্শী। সরকার একদিকে দেশে জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করছে, অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দিচ্ছে। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। প্রশ্ন জাগে, দেশে যদি সত্যিই জ্বালানি সংকট থাকে, তবে তার দায় সবার আগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর কেন চাপানো হচ্ছে? রাষ্ট্রের অন্য সব খাত ও বিলাসিতা সচল রেখে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা মূলত জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্র।”

নেতৃবৃন্দ করোনাকালীন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীরা বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য ও ডিভাইসের অভাবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যেমন শিখন ঘাটতি ও শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ কোমলমতিদের ঠেলে দেয় ডিভাইস আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পঠন-পাঠন ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাসও দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমতাবস্থায়, পুনরায় একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করা মানে জেনেশুনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া।”

পরিশেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, “জ্বালানি সংকট বা যানজট নিরসনের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা অধিকার খর্ব করার কোনো সুযোগ নেই। সরকারকে অবশ্যই শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে। আমরা অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত ও সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ শিবিরের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ঢাকা মহানগরসহ দেশের সকল মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন এবং ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে হলেও নিয়মিত সশরীরে পাঠদান সচল রাখার জোর দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ সব মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অদূরদর্শী। সরকার একদিকে দেশে জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করছে, অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দিচ্ছে। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। প্রশ্ন জাগে, দেশে যদি সত্যিই জ্বালানি সংকট থাকে, তবে তার দায় সবার আগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর কেন চাপানো হচ্ছে? রাষ্ট্রের অন্য সব খাত ও বিলাসিতা সচল রেখে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা মূলত জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্র।”

নেতৃবৃন্দ করোনাকালীন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীরা বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য ও ডিভাইসের অভাবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যেমন শিখন ঘাটতি ও শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ কোমলমতিদের ঠেলে দেয় ডিভাইস আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পঠন-পাঠন ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাসও দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমতাবস্থায়, পুনরায় একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করা মানে জেনেশুনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া।”

পরিশেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, “জ্বালানি সংকট বা যানজট নিরসনের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা অধিকার খর্ব করার কোনো সুযোগ নেই। সরকারকে অবশ্যই শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে। আমরা অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত ও সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”