সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বিএনপি’র নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটি গঠনের চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-কে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আলোচনায় সরকারি দল ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা দুই ঘণ্টা ধরে মতবিনিময় করেন।
আলোচনার শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে গ্রহণ করেন।
সমান সদস্যের দাবি ও বিতর্ক
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান কমিটিতে সরকারি ও বিরোধীদলের সমান সংখ্যক (৫০-৫০) সদস্য রাখার দাবি জানান। তিনি বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কমিটি গঠিত হলে বিরোধীদলের মতামতের মূল্যায়ন হবে না এবং শেষ পর্যন্ত তা ‘যে লাউ সেই কদু’তেই আটকে যাবে।”
তবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই দাবি সরাসরি নাকচ করে বলেন, “সংসদে ২১৯ জনের প্রতিনিধিরা পাবেন ৫০ শতাংশ, আর ৭৭ জনের প্রতিনিধিরা ৫০ শতাংশ; এটি পৃথিবীর কোথাও নেই। এটি বৈষম্য এবং আইনে নেই। স্পিকার একটি কমিটি গঠন করুন, যেখানে বিস্তারিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে জুলাই সনদের পথ অনুসরণ করে দেশের জন্য কল্যাণকর সংশোধনী আনা হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব ও বিরোধীদলের প্রতিক্রিয়া
বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সরকারি ও বিরোধীদল সবাইকে নিয়ে জাতীয় সংসদে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংশোধনী আনা হবে। এই কমিটির মাধ্যমে জনপ্রত্যাশিত সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন ও গ্রহণ করা হবে।” তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সংবিধান সংস্কার আদেশকে ‘অন্তহীন প্রতারণার দলিল’ আখ্যা দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। যেখানে সহযোগিতা প্রয়োজন সেখানে সহযোগিতা করব, এবং জাতির অধিকার সংরক্ষণের প্রয়োজনে বিরোধিতা করব।” তিনি সংসদ সদস্যদের আহ্বান জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহংকার এড়িয়ে সমতাভিত্তিক সমাধানে পৌঁছানো হোক।













