সুন্দরবনে শুরু হচ্ছে দুই মাসব্যাপী মধু আহরণ মৌসুম
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে
সুন্দরবনে ১ এপ্রিল ভোর থেকে শুরু হচ্ছে দুই মাসব্যাপী মধু আহরণ মৌসুম, যা চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। এবছর বন বিভাগ ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ৭০০ কুইন্টাল মধু ও ৩০০ কুইন্টাল মোম এবং পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১১০০ কুইন্টাল মধু ও ৬০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল আগে ফুটেছে, ফলে মৌমাছিরা মধু তৈরি করতে শুরু করেছে। শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে বৃষ্টির পর ফুল ফোটার সময় কিছুটা দেরি হওয়ায় মৌয়ালরা কয়েকদিন পর মধু আহরণ শুরু করবেন। ইতিমধ্যেই মৌয়ালরা নৌকা মেরামত ও মধু আহরণের সরঞ্জাম প্রস্তুত করেছেন।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অনুমতিপত্রপ্রাপ্ত ২ হাজার ২৫০ জন মৌয়াল পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে ৬৫০ কুইন্টাল মধু এবং ২০০ কুইন্টাল মোম আহরণ করেছিলেন। তবে বনদস্যু বাহিনীর কারণে মৌয়ালদের মধ্যে নিরাপত্তার চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন বিভাগ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে এই সমস্যা মোকাবিলা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে মৌয়ালরা দলের মাধ্যমে মধু আহরণ করবেন। প্রথমে খলিসা, গরান, পশুর ও হারগোজা গাছের ফুলের মধু সংগ্রহ করা হবে, পরে কেঁওড়া ও ছইলা ফুলের মধু। সুন্দরী ও গেওয়া গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ মৌসুমের শেষ দিকে সম্ভব হবে না, কারণ জুন থেকে তিন মাসের জন্য বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকে।
বন বিভাগ মৌয়ালদের জন্য ১৪ দিনের পাস প্রদান করছে এবং আহরণকালে নির্দিষ্ট ১০টি নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগুন বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করা, সিগারেটের আগুন ফেলা যাবে না, বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করা ইত্যাদি। অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাইথখালী গ্রামের মৌয়াল আব্দুর রশিদ, গ্রামের মৌয়াল মোজাম্মেল হোসেন জানান, গতবছর তাদের ১৫ সদস্যেন দলের প্রত্যেক সদস্য দুই মনের অধিক করে মধু পেয়েছিলেন। বন বিভাগের ১৪ দিন করে পাস সংগ্রহ, সরকারি রাজস্ব ও খাওয়া খরচ মিলিয়ে মৌসুমে তাদের প্রতিজনের খরচ হয় ১২হাজার টাকা থেকে ১৩ হাজার টাকা। আর দুই মণ মধু বিক্রি করে একেকজন পেয়েছিলেন প্রায় ৮০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যেই তারা নৌকা মেরামতসহ মধূ আহরণ সরঞ্জাম প্রস্তুন করে রেখেছে। তারা ৪ এপ্রিল দল বেধে শরণখোলা থেকে মধু আহরণে যাবেন। এবছরও আশানুরপ মধু পাবেন বলে মনে করছেন তারা। তবে, এবার সুন্দরবনের মুক্তিপনের দাবিতে বনজীবীদের অপহরণে বনদস্যু বাহিনীগুলো তৎপরাতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা চরম আতংক বিরাজ করছে। এসব মৌয়ালরা সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে যৌথ অভিযান শুরু করারর দারি জানান। একই দাবি জানান মোংলার চিলা গ্রামের মৌয়াল ইব্রাহীম হোসেনও।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহম্মদ রেজাইল করিম চৌধুরী জানান, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে মধু আহরণের জন্য বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকে বন বিভাগের অফিস থেকে মৌয়ালদের ১৪ দিন করে পাস (অনুমতিপত্র) দেয়া শুরু হবে। এবছর গাছে ফুলের সমারোহ বেশি থাকায় মৌয়ালদের মধু আহরণের আগ্রহও বেশী দেখা যাচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার বেশি মধু আহরণ হবে বলে আশা করছি। বনে প্রবেশ করে মুধ আহরণের জন্য ১০টি নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে মৌয়ালদের। এসব নির্দেশনাগুলো মধ্যে রয়েছে কোনো
তিনি বলেন, মৌয়াল মধু সংগ্রহের সময় মৌমাছি তাড়াতে অগ্নিকুন্ডলি, মশাল বা অনুরূপ কোনো দাহ্য পদার্থ এবং রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন না। বনে সিগারেটের আগুন লাগা অংশ ফেলাতে পারবেনা। বনজ সম্পদের কোন ক্ষতি করা যাবেনা। নদী খালে বিষ দেয়া যাবেনা। হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকার করা যাবেনা। হরিণ শিকারীদের পাতা ফাদ দেখলে সাথে সাথেই বন বিভাগকে জানাতে হবে। এই নির্দেশনা অমান্য করেল তার বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর শান্তির বিধান রয়েছে। বনাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি মৌয়ালদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি বর্তমান পরিস্থিতির আরো উন্নত হবে। তবে, মৌসুমের শেষ ভাগে জুন মাস থেকে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে সুন্দরবনে পুরো মৌসুম মধু আহরণ সম্ভব হয় না।











