ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাবনায় অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ২ জনের দণ্ড ফ্রিজের ওপর রাখবেন না এই ৩ জিনিস, সতর্ক করছেন বাস্তুবিদরা ইরানের নিশানায় মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি, ‘হিট লিস্টে’ মাইক্রোসফ্‌ট, গুগলসহ ১৮ কোম্পানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ শিবিরের সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে মাঠে সক্রিয় থাকবে ছাত্রশিবির: নূরুল ইসলাম তরুণদের রাজনৈতিক বলয়ে আবদ্ধ করা ঠিক নয় : পার্থ বিতর্কিত বক্তব্যে ক্ষোভ: হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতারণার দলিল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি টিন পেতে এক ছবিতে ৭০০ আবেদন

মোটরসাইকেল বাজারে ধস, অফারেও মিলছে না ক্রেতা

সুজন কুমার মন্ডল, জয়পুরহাট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জ্বালানি তেলের সংকট ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রভাবে জয়পুরহাটে মোটরসাইকেল ব্যবসায় বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়ায় যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা, তেমনি নতুন মোটরসাইকেল কেনায় আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার ২০টি জ্বালানি পাম্পের মধ্যে মাত্র কয়েকটিতে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। অধিকাংশ পাম্পই তেল সংকটে বন্ধ রয়েছে। যেসব পাম্প খোলা, সেখানে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের।

এর পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তেল নিতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে রেজিস্ট্রেশন কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট। এতে সাধারণ চালকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেল বিক্রিতে।

বিআরটিএ জয়পুরহাট সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক রাম কৃষ্ণ পোদ্দার জানান, জেলায় ৫০ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল থাকলেও প্রায় ১৫ হাজারের রেজিস্ট্রেশন নেই। অনেক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্সের জন্য আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি।

জেলার বিভিন্ন শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, তেল সংকটের পর থেকে ক্রেতাদের উপস্থিতি অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। আগে যেখানে সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাইক বিক্রি হতো, এখন তা এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।

শোরুম মালিকরা জানান, ঈদ মৌসুমেও বিক্রি ছিল আশানুরূপ নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান আকর্ষণীয় ছাড় ঘোষণা করলেও তাতে সাড়া মিলছে না। দি ফ্রেন্ডস মোটরসের এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের পর গত কয়েক দিনে একটি মোটরসাইকেলও বিক্রি হয়নি।

এ-ওয়ান ইমপেক্সের স্বত্বাধিকারী শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, আগে ঈদ মৌসুমে শতাধিক বাইক বিক্রি হলেও এবার হয়েছে মাত্র ৭০টি। ঈদের পর এক সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে মাত্র তিনটি।

হাসান ট্রেডিংয়ের মালিক মেহেদী হাসান বলেন, কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে আলু ও ধানের দামের প্রভাবও মোটরসাইকেল বিক্রিতে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে বিক্রি একেবারে তলানিতে।

একই অবস্থা সেচযন্ত্র বাজারেও। খোলা বাজারে পেট্রোল না থাকায় পানি তোলার মেশিনের বিক্রিও বন্ধের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া জানিয়েছেন, জ্বালানি পাম্পে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর নজরদারি চলছে। প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং নিয়ম মেনে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে জয়পুরহাটে মোটরসাইকেল খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মোটরসাইকেল বাজারে ধস, অফারেও মিলছে না ক্রেতা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি তেলের সংকট ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রভাবে জয়পুরহাটে মোটরসাইকেল ব্যবসায় বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়ায় যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা, তেমনি নতুন মোটরসাইকেল কেনায় আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার ২০টি জ্বালানি পাম্পের মধ্যে মাত্র কয়েকটিতে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। অধিকাংশ পাম্পই তেল সংকটে বন্ধ রয়েছে। যেসব পাম্প খোলা, সেখানে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের।

এর পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তেল নিতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে রেজিস্ট্রেশন কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট। এতে সাধারণ চালকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেল বিক্রিতে।

বিআরটিএ জয়পুরহাট সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক রাম কৃষ্ণ পোদ্দার জানান, জেলায় ৫০ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল থাকলেও প্রায় ১৫ হাজারের রেজিস্ট্রেশন নেই। অনেক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্সের জন্য আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি।

জেলার বিভিন্ন শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, তেল সংকটের পর থেকে ক্রেতাদের উপস্থিতি অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। আগে যেখানে সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাইক বিক্রি হতো, এখন তা এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।

শোরুম মালিকরা জানান, ঈদ মৌসুমেও বিক্রি ছিল আশানুরূপ নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান আকর্ষণীয় ছাড় ঘোষণা করলেও তাতে সাড়া মিলছে না। দি ফ্রেন্ডস মোটরসের এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের পর গত কয়েক দিনে একটি মোটরসাইকেলও বিক্রি হয়নি।

এ-ওয়ান ইমপেক্সের স্বত্বাধিকারী শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, আগে ঈদ মৌসুমে শতাধিক বাইক বিক্রি হলেও এবার হয়েছে মাত্র ৭০টি। ঈদের পর এক সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে মাত্র তিনটি।

হাসান ট্রেডিংয়ের মালিক মেহেদী হাসান বলেন, কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে আলু ও ধানের দামের প্রভাবও মোটরসাইকেল বিক্রিতে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে বিক্রি একেবারে তলানিতে।

একই অবস্থা সেচযন্ত্র বাজারেও। খোলা বাজারে পেট্রোল না থাকায় পানি তোলার মেশিনের বিক্রিও বন্ধের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া জানিয়েছেন, জ্বালানি পাম্পে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর নজরদারি চলছে। প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং নিয়ম মেনে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে জয়পুরহাটে মোটরসাইকেল খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।