ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাবনায় অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ২ জনের দণ্ড ফ্রিজের ওপর রাখবেন না এই ৩ জিনিস, সতর্ক করছেন বাস্তুবিদরা ইরানের নিশানায় মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি, ‘হিট লিস্টে’ মাইক্রোসফ্‌ট, গুগলসহ ১৮ কোম্পানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ শিবিরের সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে মাঠে সক্রিয় থাকবে ছাত্রশিবির: নূরুল ইসলাম তরুণদের রাজনৈতিক বলয়ে আবদ্ধ করা ঠিক নয় : পার্থ বিতর্কিত বক্তব্যে ক্ষোভ: হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতারণার দলিল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি টিন পেতে এক ছবিতে ৭০০ আবেদন

সমাধানে টিআরএম চালুর দাবি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত ৬০ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। গত ৩৫-৪০ বছরে এ সমস্যা আরও তীব্র হয়ে বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নদ-নদী খনন ও জোয়ার-ভাটা (টিআরএম) পদ্ধতি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা ‘উত্তরণ’ ও স্থানীয় পানি কমিটি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

1000125452

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অববাহিকায় দ্রুত টিআরএম বাস্তবায়ন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহজ ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা এবং সব কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি আব্দুল মতলেব সরদার বলেন, নদীতে অতিরিক্ত পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়াই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। জোয়ারের সময় আসা পলি প্লাবনভূমিতে জমা না হয়ে নদীর তলদেশে জমে নদীর গভীরতা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে বর্ষায় পোল্ডারের ভেতরে পানি আটকে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, অনেক এলাকায় বছরে ৬ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত পানি জমে থাকে, কোথাও কোথাও সারা বছরই জলাবদ্ধতা বিরাজ করে। এতে বসবাস, কৃষি ও মৎস্য খাতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানে সংকট দেখা দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, উপকূলীয় অঞ্চলের টেকা-মুক্তেশ্বরী, আপারভদ্রা, বুড়িভদ্রা, হরিহর, শিবসা, কড়ুলিয়া, কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, সাপমারা, লাবণ্যবতী, গলঘেষিয়া ও খোলপেটুয়া নদীতে ব্যাপক পলি জমে সেগুলো মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবন এলাকায়ও নদী-খালে পলি জমে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, ১৯৯১ সালে বিল ডাকাতিয়া এবং ১৯৯৭ সালে ভবদহ অঞ্চলের ভায়না বিলে স্থানীয় উদ্যোগে টিআরএম চালু করে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সরকারিভাবে বিভিন্ন এলাকায় এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে সাফল্যও আসে। তবে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত জটিলতায় বর্তমানে অনেক জায়গায় টিআরএম কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তাদের মতে, কার্যকর ক্ষতিপূরণ ও পরিকল্পিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে টিআরএমই এই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সমাধানে টিআরএম চালুর দাবি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত ৬০ লাখ মানুষ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। গত ৩৫-৪০ বছরে এ সমস্যা আরও তীব্র হয়ে বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নদ-নদী খনন ও জোয়ার-ভাটা (টিআরএম) পদ্ধতি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা ‘উত্তরণ’ ও স্থানীয় পানি কমিটি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

1000125452

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অববাহিকায় দ্রুত টিআরএম বাস্তবায়ন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহজ ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা এবং সব কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি আব্দুল মতলেব সরদার বলেন, নদীতে অতিরিক্ত পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়াই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। জোয়ারের সময় আসা পলি প্লাবনভূমিতে জমা না হয়ে নদীর তলদেশে জমে নদীর গভীরতা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে বর্ষায় পোল্ডারের ভেতরে পানি আটকে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, অনেক এলাকায় বছরে ৬ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত পানি জমে থাকে, কোথাও কোথাও সারা বছরই জলাবদ্ধতা বিরাজ করে। এতে বসবাস, কৃষি ও মৎস্য খাতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানে সংকট দেখা দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, উপকূলীয় অঞ্চলের টেকা-মুক্তেশ্বরী, আপারভদ্রা, বুড়িভদ্রা, হরিহর, শিবসা, কড়ুলিয়া, কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, সাপমারা, লাবণ্যবতী, গলঘেষিয়া ও খোলপেটুয়া নদীতে ব্যাপক পলি জমে সেগুলো মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবন এলাকায়ও নদী-খালে পলি জমে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, ১৯৯১ সালে বিল ডাকাতিয়া এবং ১৯৯৭ সালে ভবদহ অঞ্চলের ভায়না বিলে স্থানীয় উদ্যোগে টিআরএম চালু করে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সরকারিভাবে বিভিন্ন এলাকায় এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে সাফল্যও আসে। তবে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত জটিলতায় বর্তমানে অনেক জায়গায় টিআরএম কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তাদের মতে, কার্যকর ক্ষতিপূরণ ও পরিকল্পিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে টিআরএমই এই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে।