ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাবনায় অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ২ জনের দণ্ড ফ্রিজের ওপর রাখবেন না এই ৩ জিনিস, সতর্ক করছেন বাস্তুবিদরা ইরানের নিশানায় মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি, ‘হিট লিস্টে’ মাইক্রোসফ্‌ট, গুগলসহ ১৮ কোম্পানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ শিবিরের সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে মাঠে সক্রিয় থাকবে ছাত্রশিবির: নূরুল ইসলাম তরুণদের রাজনৈতিক বলয়ে আবদ্ধ করা ঠিক নয় : পার্থ বিতর্কিত বক্তব্যে ক্ষোভ: হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতারণার দলিল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি টিন পেতে এক ছবিতে ৭০০ আবেদন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব: ৩ মাসে ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত শতাধিক

ফেরদৌস সিহানুক (শান্ত), চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত তিন মাসে জেলায় এ ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৬০০ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মৃতদের মধ্যে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে একজন করে এবং মার্চ মাসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুরা হলো—পৌরসভার মারিয়া ও সাইফা, নাচোল উপজেলার তনিমা এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ইমাম মাহমুদ।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৭৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের তৃতীয় তলায় একটি আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। টিকাদানে অনীহার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি ৯ ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার দুটি ডোজ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালে হাম প্রতিরোধে জাতীয় ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত নতুন করে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেকেই প্রথমে সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করলেও পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে হাসপাতালে ছুটছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত ৩৭টি নমুনা পরীক্ষায় ২০ জনের শরীরে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রান্তদের শনাক্ত ও টিকা না নেওয়া শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব: ৩ মাসে ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত শতাধিক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত তিন মাসে জেলায় এ ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৬০০ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মৃতদের মধ্যে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে একজন করে এবং মার্চ মাসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুরা হলো—পৌরসভার মারিয়া ও সাইফা, নাচোল উপজেলার তনিমা এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ইমাম মাহমুদ।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৭৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের তৃতীয় তলায় একটি আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। টিকাদানে অনীহার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি ৯ ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার দুটি ডোজ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালে হাম প্রতিরোধে জাতীয় ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত নতুন করে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেকেই প্রথমে সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করলেও পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে হাসপাতালে ছুটছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত ৩৭টি নমুনা পরীক্ষায় ২০ জনের শরীরে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রান্তদের শনাক্ত ও টিকা না নেওয়া শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করছেন।