ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অপরাধীদের তালিকা তৈরি, ধরতে সাঁড়াশি অভিযান!

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

প্রতিকী ছবি

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী বেড়েই চলা সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ধরপাকড়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। পুলিশের সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত অপরাধের ভিত্তিতে সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল, পলায়নকৃত ও পরিচিত অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগামী দিনে এই তালিকার ভিত্তিতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করবে। অভিযান চলাকালীন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র ও চোরাই সামগ্রী জব্দ করা হবে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের পরিকল্পিত ও নিবিড় অভিযান অপরাধীদের কার্যক্রম সীমিত করতে, সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। অভিযান চলাকালীন সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্বে রাখা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরু করার জন্য অপরাধীদের বিস্তারিত তালিকা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিযান পরিচালনা করবে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। তবে অভিযানের চূড়ান্ত নাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

সরকারি সূত্র জানায়, জেলা পুলিশ সুপার এবং গোয়েন্দা সংস্থার পৃথক তালিকা চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার পর, অপরাধের ধরন অনুযায়ী অভিযানটি নামকরণ করে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এর আগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু উল্লেখ করেছিলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর মতো একটি অভিযান পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, যারা অন্যায়ে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে, এবং সরকার কাউকে ছাড় দেবে না।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সহিংসতা, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ, র‌্যাব ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে।

তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সহিংসতা ও নাশকতা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, অনলাইন প্রতারণা এবং সংগঠিত অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ব্যক্তিরাও তালিকায় থাকছে, যারা অতীতে সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তালিকায় থাকা ব্যক্তি যদি সরকারবিরোধী আন্দোলন বা সহিংসতা উসকে দেন, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্বাভাবিক জীবনযাপনকারী বা জামিনে মুক্ত ব্যক্তিদের অযথা হয়রানি করা হবে না।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের আগে ও পরে সংঘটিত অপরাধের তথ্য বিশ্লেষণ করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকাটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য এখন ঢালাও গ্রেপ্তার থেকে সরে এসে ‘টার্গেটেড অ্যাকশন’-এর মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ দমন করা।

এ ধরণের সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ দমনের পাশাপাশি এলাকার জনজীবন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অপরাধীদের তালিকা তৈরি, ধরতে সাঁড়াশি অভিযান!

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী বেড়েই চলা সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ধরপাকড়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। পুলিশের সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত অপরাধের ভিত্তিতে সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল, পলায়নকৃত ও পরিচিত অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগামী দিনে এই তালিকার ভিত্তিতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করবে। অভিযান চলাকালীন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র ও চোরাই সামগ্রী জব্দ করা হবে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের পরিকল্পিত ও নিবিড় অভিযান অপরাধীদের কার্যক্রম সীমিত করতে, সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। অভিযান চলাকালীন সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্বে রাখা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরু করার জন্য অপরাধীদের বিস্তারিত তালিকা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিযান পরিচালনা করবে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। তবে অভিযানের চূড়ান্ত নাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

সরকারি সূত্র জানায়, জেলা পুলিশ সুপার এবং গোয়েন্দা সংস্থার পৃথক তালিকা চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার পর, অপরাধের ধরন অনুযায়ী অভিযানটি নামকরণ করে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এর আগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু উল্লেখ করেছিলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর মতো একটি অভিযান পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, যারা অন্যায়ে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে, এবং সরকার কাউকে ছাড় দেবে না।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সহিংসতা, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ, র‌্যাব ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে।

তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সহিংসতা ও নাশকতা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, অনলাইন প্রতারণা এবং সংগঠিত অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ব্যক্তিরাও তালিকায় থাকছে, যারা অতীতে সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তালিকায় থাকা ব্যক্তি যদি সরকারবিরোধী আন্দোলন বা সহিংসতা উসকে দেন, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্বাভাবিক জীবনযাপনকারী বা জামিনে মুক্ত ব্যক্তিদের অযথা হয়রানি করা হবে না।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের আগে ও পরে সংঘটিত অপরাধের তথ্য বিশ্লেষণ করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকাটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য এখন ঢালাও গ্রেপ্তার থেকে সরে এসে ‘টার্গেটেড অ্যাকশন’-এর মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ দমন করা।

এ ধরণের সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ দমনের পাশাপাশি এলাকার জনজীবন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।