ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে অপকর্মের হোতা আনসার সদস্য সোহেল রানা পুলিশের জালে

শহিদুল ইসলাম দইচ, যশোর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ২৮৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোরে বহু অপকর্মের হোতা, প্রতারক ও নারী মাংস লোভী আনসার সদস্য সোহেল রানাকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের সোপাদ্য করেছে । আটক সোহেল রানা এখন কোতোয়ালি থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আটক আনসার সদস্য যশোর অভয়নগর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের এলেম শেখের ছেলে।

ভুক্তভোগী আনসার সদস্যের স্ত্রী নিলুফা বেগম অভিযোগ করে জানান, নয় বছর আগে আমার সোহেল রানার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে একটি ছেলেও একটি মেয়ে আছে। স্বামী সোহেল রানা বহু অপকর্মের হোতা নারী মাংস লোভী ও প্রতারক । এই পর্যন্ত তিনটি বিয়ে করেছেন। যার প্রমাণ আমার কাছে আছে। এছাড়া বিভিন্ন মেয়ের সাথে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।এবং শারীরিক সম্পর্ক ছবি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখে। ধারণ করা ছবি দিয়ে মেয়েদের কাছ থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারী জানান, আমি যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুর এলাকায় থাকি। আমার স্বামী বিদেশ থাকে। আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কৌশলের আপত্তিকর ছবি ভিডিও ধারুন করে ব্ল্যাকমেইল করে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপরও আমাকে টাকা দেওয়ার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছে।

অপর এক ভুক্তভোগী যশোর মহিলা কলেজের ছাত্রী ঝিনাইদহ এলাকার বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করো শর্তে জানান, সোহেল রানার সাথে ফেসবুকে আমার পরিচয়। গত তিন মাস নিজের নাম পরিচয় গোপন রেখে আমাকে বিয়ে করে। আমাকে নিয়ে যশোর শহরতলী ভেকুটিয়া গ্রামে বসবাস করি। এরপরে জানতে পারি এ পর্যন্ত ডজনখানেক মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভোগ করেছে। তাদের তাদের কাছ থেকেও প্রতারণা করে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। আমি ওর বিচার চাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শার্শা উপজেলার গোগা গ্রামের নারী জানান, আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে একাধিকবার ভোগ করেছে। এবং সেই ছবি মোবাইলে ভিডিও করে রাখে। ওই ছবি দেখে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন আবার বারবার টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে।

এক পর্যায় জানতে পারি লিমা, প্রিয়াঙ্কা, নদী ও মিলি নামে মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বোগ দখল করেছে। ওই নারীদের ও আপত্তিকার ছবি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মান সম্মান এবং লোক লজ্জার ভাই সবাই বিষয়টি চেপে যায়।

আজ সকালে ভুক্তভোগী ওই মেয়েরা খবর পেয়ে আমার ভেকুটিয়ার বাসায় জড়ো হয়। স্থানীয় লোকদের সহযোগিতায় তাকে আটক করে পরে সোহেল রানা কে পুলিশের সোপাদ্য করা হয়েছে।

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান এই প্রতিবেদককে বলেন, আনসার সদস্য সোহেল রানার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী দেখ লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যশোরে অপকর্মের হোতা আনসার সদস্য সোহেল রানা পুলিশের জালে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

যশোরে বহু অপকর্মের হোতা, প্রতারক ও নারী মাংস লোভী আনসার সদস্য সোহেল রানাকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের সোপাদ্য করেছে । আটক সোহেল রানা এখন কোতোয়ালি থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আটক আনসার সদস্য যশোর অভয়নগর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের এলেম শেখের ছেলে।

ভুক্তভোগী আনসার সদস্যের স্ত্রী নিলুফা বেগম অভিযোগ করে জানান, নয় বছর আগে আমার সোহেল রানার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে একটি ছেলেও একটি মেয়ে আছে। স্বামী সোহেল রানা বহু অপকর্মের হোতা নারী মাংস লোভী ও প্রতারক । এই পর্যন্ত তিনটি বিয়ে করেছেন। যার প্রমাণ আমার কাছে আছে। এছাড়া বিভিন্ন মেয়ের সাথে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।এবং শারীরিক সম্পর্ক ছবি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখে। ধারণ করা ছবি দিয়ে মেয়েদের কাছ থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারী জানান, আমি যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুর এলাকায় থাকি। আমার স্বামী বিদেশ থাকে। আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কৌশলের আপত্তিকর ছবি ভিডিও ধারুন করে ব্ল্যাকমেইল করে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপরও আমাকে টাকা দেওয়ার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছে।

অপর এক ভুক্তভোগী যশোর মহিলা কলেজের ছাত্রী ঝিনাইদহ এলাকার বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করো শর্তে জানান, সোহেল রানার সাথে ফেসবুকে আমার পরিচয়। গত তিন মাস নিজের নাম পরিচয় গোপন রেখে আমাকে বিয়ে করে। আমাকে নিয়ে যশোর শহরতলী ভেকুটিয়া গ্রামে বসবাস করি। এরপরে জানতে পারি এ পর্যন্ত ডজনখানেক মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভোগ করেছে। তাদের তাদের কাছ থেকেও প্রতারণা করে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। আমি ওর বিচার চাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শার্শা উপজেলার গোগা গ্রামের নারী জানান, আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে একাধিকবার ভোগ করেছে। এবং সেই ছবি মোবাইলে ভিডিও করে রাখে। ওই ছবি দেখে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন আবার বারবার টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে।

এক পর্যায় জানতে পারি লিমা, প্রিয়াঙ্কা, নদী ও মিলি নামে মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বোগ দখল করেছে। ওই নারীদের ও আপত্তিকার ছবি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মান সম্মান এবং লোক লজ্জার ভাই সবাই বিষয়টি চেপে যায়।

আজ সকালে ভুক্তভোগী ওই মেয়েরা খবর পেয়ে আমার ভেকুটিয়ার বাসায় জড়ো হয়। স্থানীয় লোকদের সহযোগিতায় তাকে আটক করে পরে সোহেল রানা কে পুলিশের সোপাদ্য করা হয়েছে।

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান এই প্রতিবেদককে বলেন, আনসার সদস্য সোহেল রানার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী দেখ লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।