হামের ঢেউয়ে আতঙ্ক: পাবনায় ২৫ শিশু হাসপাতালে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
পাবনায় সংক্রামক রোগ হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। পাবনা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে মোট ২৫ শিশু চিকিৎসাধীন। এ সময় কোনো নতুন শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে হাম আক্রান্ত দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভর্তি হওয়া শিশুদের বয়স সাধারণত নবজাতক থেকে ১ বছরের মধ্যে। এছাড়া একজন ২২ ও একজন ৩৬ বছর বয়সী রোগীও ভর্তি রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে শয্যার অভাব থাকায় একেক শয্যায় দুই-তিনজন করে ভর্তি করা হচ্ছে, মেঝেতেও কিছু শিশু চিকিৎসাধীন।
সদর উপজেলার আশুতোষপুর গ্রামের গৃহবধূ স্মৃতি খাতুন জানান, তার চার মাস বয়সী মেয়েকে ২৬ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। “প্রথমে ঠান্ডা-জ্বর, পরে শরীরে ও মুখে লাল দাগ। অসহনীয় যন্ত্রণায় মেয়েটি ছটফট করছে, বিছানায় ঘুমাতে পারছে না,” তিনি বলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া শিশুদের মৃত্যুর আশঙ্কা নেই। সহকারী পরিচালক রফিকুল হাসান বলেন, হাম ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। যেকোনো বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। আপাতত ভর্তিকৃত রোগীদের চিকিৎসায় সংকট নেই। তবে শিশু ওয়ার্ডে শয্যা ও ওষুধের ঘাটতির কারণে নতুন ওয়ার্ড চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পাবনা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে জেলার ৩৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে ১০৪টি সন্দেহভাজন ঘটনার মধ্যে ৬৬টির ল্যাব পরীক্ষায় ৩৩টি পজিটিভ পাওয়া গেছে। শুধু এক সপ্তাহে তিনটি নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
তবে পাবনায় হামের জন্য স্থানীয় ল্যাব নেই, সব নমুনা ঢাকার মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফল পেতে সাধারণত সাত দিন সময় লাগে। এই সময় রোগীদের আইসোলেশনে রাখা হয় এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বাংলা টাইমসকে বলেন, “প্রতিবার হামের সংক্রমণ হয়, তবে এ বছর সংখ্যাটি উদ্বেগজনকভাবে বেশি। আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।” জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। নবজাতক ও ৯ মাস বা তার কম বয়সী শিশুদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় টিকাদান ও পর্যবেক্ষণ আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।




















