হাসিনার মতোই কাঠগড়ায় ওলি, ভবিষ্যৎ কী?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
জেনারেশন জি (জেন জি) আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানের অভিযোগে দুই দেশের দুই সাবেক নেতার ভাগ্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ঘটনাক্রম আশ্চর্য ভাবে মিলিয়ে দিয়েছে দুই সাবেক রাষ্ট্রনেতার জীবনকে। একদিকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অন্যদিকে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি—দু’জনের পরিস্থিতিতে মিল খুঁজছেন বিশ্লেষকরা।
⚖️ ওলির গ্রেপ্তার, তদন্তের প্রেক্ষাপট
শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে নিজ বাসা থেকে কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করে নেপাল পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে নেপালের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও। যার নেপথ্যে রয়েছে জেন জি আন্দোলন! গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন জি আন্দোলনের জেরে ওলি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পালিয়ে যান। উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিশন গঠিত হয়েছিল নেপালের হিংসা নিয়ে তদন্ত করতে। আর সেই কমিশনেরই রায়, ৭৪ বছরের ওলি গুলিচালনা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতি, অন্তত ১৯টি তাজা প্রাণের মৃত্যু।
তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, গত বছরের জেন জি আন্দোলনের সময় সহিংসতা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন ওলি। এতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। এ বিষয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
⚖️ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
অন্যদিকে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রায় দিয়েছে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও দণ্ডিত হন।
মামলায় হাসিনার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল– ১) উসকানিমূলক বক্তব্য প্রকাশ, ২) জুলাই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, ৩) রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, ৪) রাজধানী ঢাকার চানখঁারপুল এলাকায় ছ’জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং ৫) আশুলিয়ায় ছ’জনকে পুড়িয়ে মারা।
❗ দুই দেশের পরিস্থিতির পার্থক্য
যদিও দুই ঘটনার মধ্যে মিল খোঁজা হচ্ছে, তবে আইনি দিক থেকে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নেপালে ওলির বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ প্রশাসনিক ব্যর্থতা—অর্থাৎ আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ঠেকাতে না পারা।
এ ধরনের অভিযোগে সর্বোচ্চ সাজা সাধারণত কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ড নয়। ফলে ওলির ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা থাকলেও মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা খুবই কম।
জেন জি আন্দোলন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। জনগণের প্রতিবাদের মুখে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—যা এই দুই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।






















