ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা আরও কঠোর, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আরও কঠোরভাবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নকল ও প্রশ্নফাঁস রোধে নেওয়া হচ্ছে নজিরবিহীন ব্যবস্থা—ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বসানো হবে সিসি ক্যামেরা, থাকবে বিশেষ অভিযান ও তাৎক্ষণিক পরিদর্শন।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে দেশের সব পরীক্ষাকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এই ব্যবস্থা চালু করে বিশেষ নজরদারি করা হবে। প্রয়োজনে আবারও চালু হতে পারে ‘হেলিকপ্টার মিশন’, যার মাধ্যমে আকস্মিকভাবে যেকোনো কেন্দ্রে পরিদর্শন করা হবে।

⚠️ নতুন নিয়মে পরীক্ষা, বন্ধ ভেন্যু কেন্দ্র

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন হিসেবে বেশিরভাগ ‘ভেন্যু কেন্দ্র’ বাতিল করা হয়েছে। শুধুমাত্র মূল কেন্দ্রেই পরীক্ষা নেওয়া হবে, যাতে তদারকি জোরদার করা যায়।

এছাড়া—

কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হবে না।
পরীক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়া হবে।
দায়িত্বরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপরও কঠোর নজরদারি থাকবে।

🟠 ডিজিটাল নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে মুদ্রণ থেকে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সারাদেশের পরীক্ষা মনিটরিং করা হবে। সন্দেহজনক কার্যক্রম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়াবে, যাতে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ানো চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

🟡 বিশেষ নজরে মাদরাসা ও দুর্গম এলাকা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসা ও দুর্গম অঞ্চলের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নকলের প্রবণতা বেশি থাকায় এ বছর সেখানে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

📊 ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

শিক্ষার্থীদের সময় সাশ্রয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিষয়সংখ্যা কমানোর সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘এসএসসির প্রশ্নপত্র এরই মধ্যে জেলা পর্যায়ে চলে গেছে। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে এ বছর ২৯২টি ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করেছি। বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় শুধু নিকলি ও অষ্টগ্রামে দুটি ভেন্যু কেন্দ্র রাখা হয়েছে। নকল প্রতিরোধে মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা করছি। সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর অবস্থানকে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এর প্রয়োগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা আরও কঠোর, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আরও কঠোরভাবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নকল ও প্রশ্নফাঁস রোধে নেওয়া হচ্ছে নজিরবিহীন ব্যবস্থা—ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বসানো হবে সিসি ক্যামেরা, থাকবে বিশেষ অভিযান ও তাৎক্ষণিক পরিদর্শন।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে দেশের সব পরীক্ষাকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এই ব্যবস্থা চালু করে বিশেষ নজরদারি করা হবে। প্রয়োজনে আবারও চালু হতে পারে ‘হেলিকপ্টার মিশন’, যার মাধ্যমে আকস্মিকভাবে যেকোনো কেন্দ্রে পরিদর্শন করা হবে।

⚠️ নতুন নিয়মে পরীক্ষা, বন্ধ ভেন্যু কেন্দ্র

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন হিসেবে বেশিরভাগ ‘ভেন্যু কেন্দ্র’ বাতিল করা হয়েছে। শুধুমাত্র মূল কেন্দ্রেই পরীক্ষা নেওয়া হবে, যাতে তদারকি জোরদার করা যায়।

এছাড়া—

কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হবে না।
পরীক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়া হবে।
দায়িত্বরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপরও কঠোর নজরদারি থাকবে।

🟠 ডিজিটাল নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে মুদ্রণ থেকে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সারাদেশের পরীক্ষা মনিটরিং করা হবে। সন্দেহজনক কার্যক্রম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়াবে, যাতে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ানো চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

🟡 বিশেষ নজরে মাদরাসা ও দুর্গম এলাকা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসা ও দুর্গম অঞ্চলের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নকলের প্রবণতা বেশি থাকায় এ বছর সেখানে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

📊 ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

শিক্ষার্থীদের সময় সাশ্রয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিষয়সংখ্যা কমানোর সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘এসএসসির প্রশ্নপত্র এরই মধ্যে জেলা পর্যায়ে চলে গেছে। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে এ বছর ২৯২টি ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করেছি। বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় শুধু নিকলি ও অষ্টগ্রামে দুটি ভেন্যু কেন্দ্র রাখা হয়েছে। নকল প্রতিরোধে মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা করছি। সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর অবস্থানকে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এর প্রয়োগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।