ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলে দিনে ভর্তুকি ১৬৭ কোটি টাকা

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকার বর্তমানে দেশের জ্বালানি তেলের ওপর প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ভর্তুকি দিচ্ছে। এই ভর্তুকির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জ্বালানি পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কমে থাকার সুবিধা পাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ভর্তুকি জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তেলের দাম সাপেক্ষে ভর্তুকি না দিলে, সাধারণ জনগণের খরচ আরও বেড়ে যেত এবং জীবনযাত্রার চাপ আরও বৃদ্ধি পেত।

এদিকে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) যশোরে এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত) জানান, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।

এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বহির্বিশ্বের অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করেনি সরকার।

তিনি বলেন,পৃথিবীর ৮০টা দেশ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ সরকার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেনি। সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে। দেশে প্রতিদিন গড়ে ডিজেলের চাহিদা ছিল ১২ হাজার টন। পেট্রল–অকটেনের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন। ঈদের আগে প্রতিদিন ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত জনগণের জ্বালানির চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

অন্যদিকে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে ৬৮ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কিছু কালোবাজারি তেল মজুত করে সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের ভর্তুকি রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তারা মনে করছেন, যদি জ্বালানি খাতে সরকারি ব্যয় কমানো যায়, তবে বাজেট আরও শক্তিশালী হবে এবং সেই অর্থ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে—যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভর্তুকি প্রয়োজনীয় হলেও তার স্থায়িত্ব ও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা আবশ্যক, যাতে অর্থনীতি ভারসাম্যহীন না হয় এবং দেশের বাজেটের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

পাম্প মালিক সমিতি জানিয়েছে, ক্রেতারা সংযত না হলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পাম্পগুলোতে তেল শেষ হয়ে যেতে পারে। তারা জনগণকে তেল ক্রয়ে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তেল মজুদের তথ্য দিলে পুরস্কার!

দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তেল সরবরাহ তদারকিতে সব জেলায় কমিটি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বার্তায় জানানো হয়, জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকিতে সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে সরকার।

অবৈধ মজুদদারি বন্ধে তথ্য প্রদানকারীর জন্য আসছে পুরস্কারের ঘোষণা। সচেতন নাগরিকগণকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। আরও বলা হয়, তেল খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এসব তদারকি দল কাজ করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযানও শুরু হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন জেলার জন্য পৃথক ভিজিলেন্স টিম ও যোগাযোগ নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এসব টিমের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কোথাও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) বা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) এ দায়িত্বে রয়েছেন। সাধারণ জনগণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং তথ্যদাতাদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অভিযান ও জরিমানা

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বিশেষ অভিযানে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কমিশনার ঘাট এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার। অভিযানে ৩০টি ড্রামে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ডিজেল উদ্ধার করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘তেল নেই’ লিখে বিক্রি বন্ধ রাখা একটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের সন্ধান পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তেল মজুত রেখেও বিক্রি না করে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরির দায়ে ওই পাম্পকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বড়দাদপুর এলাকায় ‘মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশন’-এ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সী।

ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, ওই ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ তাদের পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে সব ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি নজরে আসার পর সেখানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে পাম্পের ভূগর্ভস্থ ট্যাংকে স্কেল দিয়ে পরিমাপ করে দেখা যায়, পাম্পটিতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, পাম্পটিতে দুই হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রল, তিন হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং তিন হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন মজুত পাওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জ্বালানি তেলে দিনে ভর্তুকি ১৬৭ কোটি টাকা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

সরকার বর্তমানে দেশের জ্বালানি তেলের ওপর প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ভর্তুকি দিচ্ছে। এই ভর্তুকির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জ্বালানি পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কমে থাকার সুবিধা পাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ভর্তুকি জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তেলের দাম সাপেক্ষে ভর্তুকি না দিলে, সাধারণ জনগণের খরচ আরও বেড়ে যেত এবং জীবনযাত্রার চাপ আরও বৃদ্ধি পেত।

এদিকে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) যশোরে এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত) জানান, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।

এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বহির্বিশ্বের অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করেনি সরকার।

তিনি বলেন,পৃথিবীর ৮০টা দেশ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ সরকার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেনি। সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে। দেশে প্রতিদিন গড়ে ডিজেলের চাহিদা ছিল ১২ হাজার টন। পেট্রল–অকটেনের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন। ঈদের আগে প্রতিদিন ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত জনগণের জ্বালানির চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

অন্যদিকে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে ৬৮ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কিছু কালোবাজারি তেল মজুত করে সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের ভর্তুকি রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তারা মনে করছেন, যদি জ্বালানি খাতে সরকারি ব্যয় কমানো যায়, তবে বাজেট আরও শক্তিশালী হবে এবং সেই অর্থ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে—যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভর্তুকি প্রয়োজনীয় হলেও তার স্থায়িত্ব ও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা আবশ্যক, যাতে অর্থনীতি ভারসাম্যহীন না হয় এবং দেশের বাজেটের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

পাম্প মালিক সমিতি জানিয়েছে, ক্রেতারা সংযত না হলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পাম্পগুলোতে তেল শেষ হয়ে যেতে পারে। তারা জনগণকে তেল ক্রয়ে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তেল মজুদের তথ্য দিলে পুরস্কার!

দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তেল সরবরাহ তদারকিতে সব জেলায় কমিটি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বার্তায় জানানো হয়, জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকিতে সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে সরকার।

অবৈধ মজুদদারি বন্ধে তথ্য প্রদানকারীর জন্য আসছে পুরস্কারের ঘোষণা। সচেতন নাগরিকগণকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। আরও বলা হয়, তেল খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এসব তদারকি দল কাজ করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযানও শুরু হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন জেলার জন্য পৃথক ভিজিলেন্স টিম ও যোগাযোগ নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এসব টিমের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কোথাও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) বা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) এ দায়িত্বে রয়েছেন। সাধারণ জনগণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং তথ্যদাতাদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অভিযান ও জরিমানা

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বিশেষ অভিযানে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কমিশনার ঘাট এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার। অভিযানে ৩০টি ড্রামে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ডিজেল উদ্ধার করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘তেল নেই’ লিখে বিক্রি বন্ধ রাখা একটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের সন্ধান পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তেল মজুত রেখেও বিক্রি না করে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরির দায়ে ওই পাম্পকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বড়দাদপুর এলাকায় ‘মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশন’-এ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সী।

ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, ওই ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ তাদের পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে সব ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি নজরে আসার পর সেখানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে পাম্পের ভূগর্ভস্থ ট্যাংকে স্কেল দিয়ে পরিমাপ করে দেখা যায়, পাম্পটিতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, পাম্পটিতে দুই হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রল, তিন হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং তিন হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন মজুত পাওয়া যায়।