‘ডিপ স্টেট’ প্রস্তাব: ২০২৯ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার অফার—কতটা সত্য?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া-এর এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। তবে প্রস্তাবদাতা কারা, কী শর্ত ছিল এবং এর বাস্তবতা কতটা—এসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে ধোঁয়াশায়।
🧩 প্রেক্ষাপট: কোথায় এলো এই দাবি
ঢাকার বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকেই “ডিপ স্টেট” থেকে তাদের কাছে একটি প্রস্তাব আসে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবে বলা হয়েছিল—তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনা সরকারের নির্ধারিত মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারই ক্ষমতায় থাকতে পারে, যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানা হয়।
⚖️ কী ছিল সেই শর্ত?
আসিফ মাহমুদের দাবি, প্রস্তাবদাতারা কিছু “ফ্যাসিলিটেশন” বা সুবিধা চেয়েছিল, যার মধ্যে ছিল—বিচারিক প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করা, বিরোধী নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা তৈরি করা, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান-এর সাজা সংক্রান্ত বিষয়, যা দীর্ঘায়িত করা হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ত।
🕵️♂️ ‘ডিপ স্টেট’—কারা তারা?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই।
আসিফ মাহমুদ নিজেই স্বীকার করেছেন—“ডিপ স্টেট”-এ দেশি-বিদেশি একাধিক শক্তিশালী পক্ষ জড়িত ছিল, তবে তিনি কারও নাম প্রকাশ করতে চাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “ডিপ স্টেট” সাধারণত এমন এক অপ্রাতিষ্ঠানিক শক্তি, যারা সরাসরি ক্ষমতায় না থেকেও রাষ্ট্রের নীতি ও সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। এতে থাকতে পারে—প্রভাবশালী আমলাতন্ত্র, নিরাপত্তা সংস্থার অংশ, আন্তর্জাতিক স্বার্থগোষ্ঠী, অর্থনৈতিক এলিট।
তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি এখনো একটি অস্পষ্ট ও বিতর্কিত ধারণা।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পূর্বে “ডিপ স্টেট” শব্দটি ব্যবহার করলেও তিনিও নির্দিষ্ট করে কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্য কোনো সাবেক উপদেষ্টা এখনো প্রকাশ্যে এমন দাবি সমর্থন করেননি।
বিশ্লেষণ: রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বক্তব্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়—অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর সম্ভাব্য চাপের ইঙ্গিত, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আস্থার প্রশ্ন, রাজনৈতিক বয়ানে “ডিপ স্টেট” ধারণার প্রবেশ।
তবে সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের দাবি জনমনে বিভ্রান্তিও তৈরি করতে পারে।
আসিফ মাহমুদের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, এর পক্ষে দৃশ্যমান প্রমাণ বা নির্দিষ্ট তথ্য এখনো অনুপস্থিত। ফলে “ডিপ স্টেট”-এর প্রস্তাব—বাস্তবতা নাকি কেবল রাজনৈতিক বয়ান—তা নির্ধারণে আরও তথ্য ও স্বচ্ছতা জরুরি হয়ে উঠেছে।
























