ঈশ্বরদীতে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, তিনদিন পর মামলা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইদের সন্ত্রাসী উল্লেখ করে উস্কানিমুলক শ্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের মধ্যে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনার তিন দিন পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ বাদী হয়ে জাকারিয়া পিন্টুর পরিবারের চারজন সহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের পদধারী ১১২ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন ঈশ্বরদী থানায়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ)বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মোমিনুজ্জামান।
এবিষয়ে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু বলেন, ওরা দেখছে যে যারা ১৭ বছরে শত নির্যাতন কষ্ট সহ্য করে আন্দলন সংগ্রাম করেছে। এরা থাকলেতো ওদের অস্তিত্ব বা নাম গন্ধ থাকবে না।
।এরা চিন্তা করছে যে আমাদের অস্তিত্ব ধ্বংস করতে পারলে দলের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং দল ক্ষমতায় আছে তারাও লাভবান হবে। ওরা এসব চিন্তা করেই এসকল নোংরামি করে। তবে সাংগঠনিকভাবে বিষয়গুলো দলের হাইকমান্ডকে জানানো হচ্ছে।
এবিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের সামনে মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে আমদের উপর হামলা হয়েছে। যাদেরকে আমরা চিনি জানি তাদের নাম উল্লেখ করে এবং যাদের চিনি না তাদের অজ্ঞাত করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেছি।
এবিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, সেদিনের ভিডিও ফুটেজ স্যোসাল মিডিয়ে সকলেই দেখেছে। তারা পুলিশের বেরিকেড ভেঙে এবং পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে সম্মুখে অগ্রসর হয়।
সেসময় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে আমাদের সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। আমরা রেলগেটস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌছালে পুলিশ আমাদের অনুরোধ করে আপনারা আর সামনে এগোবেন না বিপরীত দিক থেকে একটি মিছিল আসছে।
আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সেখানেই অবস্থান করি এবং আর সামনে অগ্রসর হই না। কিন্তু স্যোসাল মিডিয়াতে দেখেছেন পলাশ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা ও বেরিকেড ভেঙে রেলগেটের দিকে অগ্রসর হয়। এবং রেলগেটে পৌছানোর পর পুলিশের সামনেই অস্ত্র বের করে এলোপাথারী গুলি বর্ষণ ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।
ইতি মধ্যে স্যোসাল মিডিয়ার ভিডিও ফুটেজে পরিস্কার দেখা যাচ্ছে কারা অস্ত্র বের করে গুলি করেছে। অতএব কারা সন্ত্রাস কারা অরাজকতা করেছে তা দিনের আলোর মত পরিস্কার। অতএব এটি একটি ভিত্তিহীন মিথ্যা বানোয়াট মামলা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
উল্লেখ্য, গত ২০ তারিখ দিবাগত রাতে পৌর ৪ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ রউফ আব্দুলকে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। তার প্রেক্ষিতে আব্দুলের অনুসারীরা প্রতিপক্ষদের না পেয়ে বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। এসকল ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৩ মার্চ উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব থেকে সংবাদ সম্মেলন করে ফিরছিলেন এবং বিএনপি মনোনিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেলগেট অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছিল। দুপক্ষ যেন মুখোমুখি যেন না হয় সেজন্য পুলিশ উভয় পক্ষকেই অনুরোধ করে।
কিন্তু হাবিব সমর্থকেরা পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঈশ্বরদী রেল গেটে পৌছায় এবং বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। ঐসময় পিন্টু সমর্থকেরা সম্মেলন শেষ করে রেলগেট এলাকায় পৌছায়। ফলে উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।




















