ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনিয়ম-দুর্নীতি: সাবেক উপদেষ্টা ফারুকীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে দেশে প্রবেশ বা দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সম্পর্কিত কার্যক্রমে বহুল চর্চিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য যাচাই করার জন্য তদন্ত সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসানকে সভাপতি করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)-এর প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তারা ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন।

নথি ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি নথিতে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। নথিতে মন্ত্রণালয়ের সিল এবং উপসচিব মোহাম্মদ গোলাম কবিরের স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে। তবে ইন্টারনেটে ভুয়া সরকারি আদেশ ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা থাকায় নথির আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিয়ে এখনো কিছুটা ধোঁয়াশা আছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি বা নির্ভরযোগ্য মিডিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই আদেশের শতভাগ সত্যতা নিশ্চিত করা কঠিন।

জিজ্ঞাসাবাদ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আদেশে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে ড. মোহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।

এছাড়া অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য যাচাই করার দায়িত্বও সংস্থাগুলোর উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া অনুপস্থিত

এ বিষয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো ধরনের সহযোগিতাও করেননি।

সমালোচনা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। আর্থিক অসংগতি এবং দ্বৈত বাজেটের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এমন চাঞ্চল্যকর একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই গণমাধ্যমের কাছে পৌঁছেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অনিয়ম-দুর্নীতি: সাবেক উপদেষ্টা ফারুকীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে দেশে প্রবেশ বা দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সম্পর্কিত কার্যক্রমে বহুল চর্চিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য যাচাই করার জন্য তদন্ত সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসানকে সভাপতি করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)-এর প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তারা ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন।

নথি ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি নথিতে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। নথিতে মন্ত্রণালয়ের সিল এবং উপসচিব মোহাম্মদ গোলাম কবিরের স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে। তবে ইন্টারনেটে ভুয়া সরকারি আদেশ ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা থাকায় নথির আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিয়ে এখনো কিছুটা ধোঁয়াশা আছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি বা নির্ভরযোগ্য মিডিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই আদেশের শতভাগ সত্যতা নিশ্চিত করা কঠিন।

জিজ্ঞাসাবাদ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আদেশে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে ড. মোহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।

এছাড়া অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য যাচাই করার দায়িত্বও সংস্থাগুলোর উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া অনুপস্থিত

এ বিষয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো ধরনের সহযোগিতাও করেননি।

সমালোচনা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। আর্থিক অসংগতি এবং দ্বৈত বাজেটের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এমন চাঞ্চল্যকর একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই গণমাধ্যমের কাছে পৌঁছেছে।