বাসের ধাক্কায় থেমে গেল একটি পরিবারের যাত্রা, নিহত ৪
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫২:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
সন্ধ্যার আলো তখন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছিল। ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছুটছিল গাড়ির সারি—যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়ায়। কিন্তু কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় হঠাৎই থেমে গেল একটি পরিবারের যাত্রা—একটি মুহূর্তেই বদলে গেল সবকিছু।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় দ্রুতগতির একটি বাসের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় একটি প্রাইভেট কার। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান গাড়িটির চালক। আর হাসপাতালে নেওয়ার পর একে একে নিভে যায় আরও তিনটি প্রাণ।
চারজনের মৃত্যু—সংখ্যাটি হয়তো কাগজে-কলমে ছোট, কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে একটি করে পরিবার, একটি করে গল্প, কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামি হোটেলের সামনে স্টারলাইন পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস সজোরে ধাক্কা দেয় প্রাইভেট কারটিকে। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে গাড়িটি মুহূর্তেই বিকৃত লোহার স্তূপে পরিণত হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক আর আর্তনাদ। স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সবার ভাগ্যে বাঁচা জোটেনি।
গাড়িটিতে থাকা এক শিশুসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের জীবন নিয়েও শঙ্কা কাটেনি—হাসপাতালের বেডে চলছে বেঁচে থাকার লড়াই।
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মমিন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো হয়েছে এবং হতাহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কিন্তু তদন্ত আর আইনি প্রক্রিয়ার বাইরেও থেকে যায় কিছু প্রশ্ন—কেন এমন দুর্ঘটনা থামছে না? কেন প্রতিদিনের এই যাত্রাপথ এত অনিশ্চিত?
সেই প্রাইভেট কারের যাত্রীরা হয়তো ফিরছিলেন আপনজনের কাছে, কিংবা যাচ্ছিলেন নতুন কোনো গন্তব্যে। কিন্তু কালাকচুয়া এলাকায় থেমে গেছে তাদের পথ। আর পেছনে পড়ে আছে কিছু অপেক্ষা—যারা আর কোনোদিন পূর্ণ হবে না।




















