ইরানি নৌ কমান্ডার হত্যায় নতুন টানাপোড়েন, নিশ্চুপ দুই পক্ষ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইসরায়েলের একাধিক সংবাদমাধ্যম। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বন্দর আব্বাস উপকূলীয় এলাকায় হামলায় তিনি নিহত হন।
তবে এ বিষয়ে ইরান বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
আলিরেজা তাংসিরি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন। সাম্প্রতিক সংঘাতে এই জলপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টির কৌশলে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই তথ্য সত্য হয়, তবে এটি চলমান সংঘাতে ইরানের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, এতে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে পৃথক খবরে দাবি করা হয়েছে, আইআরজিসির আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ ফোর্স’-এর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। যদিও এ ঘটনাও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্রতিদিন প্রায় ২০–২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
এছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এই পথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান কিছু দেশকে সীমিতভাবে এই পথ ব্যবহারের অনুমতি দিলেও অধিকাংশ দেশের জন্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।





















