ঢাকা ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলতে পারবে বাংলাদেশি জাহাজ: ইরান

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ ও অনুমোদিত দেশের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সীমিতভাবে খোলা থাকবে।

ইরানের ঘোষিত তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তান রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র হিসেবে বিবেচিত কিছু দেশের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ—এমন দাবি সঠিক নয়। যেসব দেশ আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে, তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ভারতসহ কয়েকটি দেশের জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে এবং বাংলাদেশও অনুমোদিত দেশের তালিকায় রয়েছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর থেকে ইরান এ জলপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ এ পথে চলাচল করলেও মার্চ মাসের প্রথম ২৫ দিনে তা প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে যায়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে অধিকাংশই তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার।

ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত, তাদের জাহাজ এ পথে চলতে দেওয়া হবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চল একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই শত্রু বা তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনো কারণ নেই।”

চলতি সপ্তাহে ট্রানজিট অনুমতি না থাকায় পাকিস্তানগামী একটি কনটেইনার জাহাজকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেয় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারির মাধ্যমে প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হচ্ছে, বেড়েছে পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। অনেক দেশ ইতোমধ্যে জরুরি অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলতে পারবে বাংলাদেশি জাহাজ: ইরান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ ও অনুমোদিত দেশের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সীমিতভাবে খোলা থাকবে।

ইরানের ঘোষিত তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তান রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র হিসেবে বিবেচিত কিছু দেশের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ—এমন দাবি সঠিক নয়। যেসব দেশ আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে, তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ভারতসহ কয়েকটি দেশের জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে এবং বাংলাদেশও অনুমোদিত দেশের তালিকায় রয়েছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর থেকে ইরান এ জলপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ এ পথে চলাচল করলেও মার্চ মাসের প্রথম ২৫ দিনে তা প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে যায়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে অধিকাংশই তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার।

ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত, তাদের জাহাজ এ পথে চলতে দেওয়া হবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চল একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই শত্রু বা তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনো কারণ নেই।”

চলতি সপ্তাহে ট্রানজিট অনুমতি না থাকায় পাকিস্তানগামী একটি কনটেইনার জাহাজকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেয় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারির মাধ্যমে প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হচ্ছে, বেড়েছে পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। অনেক দেশ ইতোমধ্যে জরুরি অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।