ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২৫ মার্চ — এক কালো অধ্যায়

সুপন রায়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় ও ভয়াল অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার উপর আক্রমণ চালিয়ে নিরীহ মানুষের উপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। শত শত মানুষ—ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, নারী ও শিশু—নির্দিষ্ট কোনো অপরাধ ছাড়াই প্রাণ হারান। পুরো জাতিকে ভয়, বিভ্রান্তি ও বেদনার মাঝে ফেলে, এই হত্যাযজ্ঞ স্বাধীনতার চেতনায় আরও দৃঢ় প্রেরণা জুগিয়েছিল।

আজও ২৫ মার্চ স্মরণ করায় যে, স্বাধীনতা শুধু একটি শব্দ নয়, বরং অর্জনের জন্য প্রজন্মের আত্মত্যাগের ফল। আমাদের দায়িত্ব, এই ইতিহাসকে ভুলে না যাওয়া, শিক্ষার্থীদের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া এবং মানবাধিকারের মূল্য বুঝিয়ে দেওয়া।

গণহত্যার এই কালো স্মৃতিতে আমরা কেবল শোকাহতই হই না, বরং প্রতিজ্ঞা করি—নিরীহ মানুষের ওপর যে কোনো অত্যাচার পুনরায় ঘটতে দেবো না। ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জাতি তখনই শক্তিশালী হয় যখন আমরা অতীতের ব্যথা থেকে শিক্ষা নিয়ে সমবেদনা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করি।

২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালীদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মুছে দেওয়ার চেষ্টায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তারপর ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়ে বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে, তারই নাম অপারেশন সার্চলাইট।

এই অভিযানের নির্দেশনামা তৈরি করে পাকিস্তানের ২ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। নির্দেশনামার কোনো লিখিত নথি রাখা হয়নি। গণহত্যার সেই পুরো নির্দেশ মুখে মুখে ফরমেশন কমান্ডার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়। অনেক পরে, ২০১২ সালে, মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ‘এ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি’ নামে আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস প্রকাশিত সে আত্মজীবনীতে প্রথমবারের মতো অপারেশন সার্চলাইট সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়।

আজ ২৫ মার্চ শুধু শোকের দিন নয়, বরং আমাদের কাছে একটি স্মরণীয় শিক্ষা: স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ইতিহাসের এই ব্যথা আমাদের সতর্ক করে যে, নিরীহ মানুষ হত্যার কোনো оправдание নেই। আমাদের দায়িত্ব, অতীতকে ভুলে না যেয়ে নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের মূল্য বুঝিয়ে দেওয়া।

২৫ মার্চের স্মৃতিতে আমরা কেবল শোকাহতই হই না, বরং প্রতিজ্ঞা করি—ভবিষ্যতে কোনো মানুষের ওপর অযাচিত নির্যাতন আর হতে দেব না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

২৫ মার্চ — এক কালো অধ্যায়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় ও ভয়াল অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার উপর আক্রমণ চালিয়ে নিরীহ মানুষের উপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। শত শত মানুষ—ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, নারী ও শিশু—নির্দিষ্ট কোনো অপরাধ ছাড়াই প্রাণ হারান। পুরো জাতিকে ভয়, বিভ্রান্তি ও বেদনার মাঝে ফেলে, এই হত্যাযজ্ঞ স্বাধীনতার চেতনায় আরও দৃঢ় প্রেরণা জুগিয়েছিল।

আজও ২৫ মার্চ স্মরণ করায় যে, স্বাধীনতা শুধু একটি শব্দ নয়, বরং অর্জনের জন্য প্রজন্মের আত্মত্যাগের ফল। আমাদের দায়িত্ব, এই ইতিহাসকে ভুলে না যাওয়া, শিক্ষার্থীদের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া এবং মানবাধিকারের মূল্য বুঝিয়ে দেওয়া।

গণহত্যার এই কালো স্মৃতিতে আমরা কেবল শোকাহতই হই না, বরং প্রতিজ্ঞা করি—নিরীহ মানুষের ওপর যে কোনো অত্যাচার পুনরায় ঘটতে দেবো না। ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জাতি তখনই শক্তিশালী হয় যখন আমরা অতীতের ব্যথা থেকে শিক্ষা নিয়ে সমবেদনা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করি।

২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালীদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মুছে দেওয়ার চেষ্টায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তারপর ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়ে বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে, তারই নাম অপারেশন সার্চলাইট।

এই অভিযানের নির্দেশনামা তৈরি করে পাকিস্তানের ২ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। নির্দেশনামার কোনো লিখিত নথি রাখা হয়নি। গণহত্যার সেই পুরো নির্দেশ মুখে মুখে ফরমেশন কমান্ডার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়। অনেক পরে, ২০১২ সালে, মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ‘এ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি’ নামে আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস প্রকাশিত সে আত্মজীবনীতে প্রথমবারের মতো অপারেশন সার্চলাইট সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়।

আজ ২৫ মার্চ শুধু শোকের দিন নয়, বরং আমাদের কাছে একটি স্মরণীয় শিক্ষা: স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ইতিহাসের এই ব্যথা আমাদের সতর্ক করে যে, নিরীহ মানুষ হত্যার কোনো оправдание নেই। আমাদের দায়িত্ব, অতীতকে ভুলে না যেয়ে নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের মূল্য বুঝিয়ে দেওয়া।

২৫ মার্চের স্মৃতিতে আমরা কেবল শোকাহতই হই না, বরং প্রতিজ্ঞা করি—ভবিষ্যতে কোনো মানুষের ওপর অযাচিত নির্যাতন আর হতে দেব না।