ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৩ বছর কোমায় থাকার পর ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’: চিরবিদায় হরিশ রানা

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থেকে যেন জীবন্মৃত জীবন কাটিয়েছিলেন হরিশ রানা। অবশেষে আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’ গ্রহণ করে চিরবিদায় নিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩২ বছর।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তাঁর বাবা অশোক রানা বলেন, “কোনও বাবা কি সন্তানের জন্য এমন পরিণতি চায়?”

জানা যায়, ২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়-এর মেধাবী ছাত্র হরিশ রানা পাঁচতলা থেকে পড়ে গুরুতর মাথায় আঘাত পান। এরপর থেকেই তিনি কোমায় চলে যান। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কোনো সম্ভাবনা ছিল না।

পরিস্থিতির অবনতি দেখে শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিবার ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’র আবেদন জানায়। বিষয়টি গড়ায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এ। সেখানে বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও কেভি বিশ্বনাথন-এর বেঞ্চ বিস্তারিত চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের অনুমতি দেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করে, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে পরিবারটি তাঁর পাশে থেকেছে এবং মেডিক্যাল বোর্ডও জানিয়েছে—এই অবস্থায় কৃত্রিমভাবে জীবন ধরে রাখা তাঁর জন্য মঙ্গলজনক নয়। রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি পারদিওয়ালা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলেও জানা যায়।

উল্লেখ্য, ‘ইউথেনেশিয়া’ বা নিষ্কৃতি মৃত্যু হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে অসহনীয় যন্ত্রণা বা নিরাময়ের সম্ভাবনা না থাকলে চিকিৎসা সহায়তায় জীবনের ইতি টানা হয়। নেদারল্যান্ড, কানাডা, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে এটি আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১৩ বছর কোমায় থাকার পর ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’: চিরবিদায় হরিশ রানা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থেকে যেন জীবন্মৃত জীবন কাটিয়েছিলেন হরিশ রানা। অবশেষে আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’ গ্রহণ করে চিরবিদায় নিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩২ বছর।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তাঁর বাবা অশোক রানা বলেন, “কোনও বাবা কি সন্তানের জন্য এমন পরিণতি চায়?”

জানা যায়, ২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়-এর মেধাবী ছাত্র হরিশ রানা পাঁচতলা থেকে পড়ে গুরুতর মাথায় আঘাত পান। এরপর থেকেই তিনি কোমায় চলে যান। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কোনো সম্ভাবনা ছিল না।

পরিস্থিতির অবনতি দেখে শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিবার ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’র আবেদন জানায়। বিষয়টি গড়ায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এ। সেখানে বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও কেভি বিশ্বনাথন-এর বেঞ্চ বিস্তারিত চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের অনুমতি দেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করে, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে পরিবারটি তাঁর পাশে থেকেছে এবং মেডিক্যাল বোর্ডও জানিয়েছে—এই অবস্থায় কৃত্রিমভাবে জীবন ধরে রাখা তাঁর জন্য মঙ্গলজনক নয়। রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি পারদিওয়ালা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলেও জানা যায়।

উল্লেখ্য, ‘ইউথেনেশিয়া’ বা নিষ্কৃতি মৃত্যু হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে অসহনীয় যন্ত্রণা বা নিরাময়ের সম্ভাবনা না থাকলে চিকিৎসা সহায়তায় জীবনের ইতি টানা হয়। নেদারল্যান্ড, কানাডা, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে এটি আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে।