জ্বালানি সংকট: থেমে যাচ্ছে গাড়ির চাকা, ভোগান্তিতে যাত্রী ও পরিবহনখাত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
বাগেরহাটের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের ঘাটতির কারণে থেমে যাচ্ছে যানবাহনের চাকা, ব্যাহত হচ্ছে পণ্য পরিবহন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানির অভাবে অনেক ট্রাক ও বাস মাঝপথেই থেমে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, কখনও বিকল্প যান না পেয়ে পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
পণ্যবাহী ট্রাক চালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাগেরহাট থেকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় পণ্য নিতে তার প্রয়োজন ১১০ লিটার ডিজেল। কিন্তু একেকটি পাম্প থেকে ১০ লিটারের বেশি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে একাধিক পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে, তাতেও অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পণ্য সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল।
বাস চালক মো. সরোয়ার হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস চালানো সম্ভব হচ্ছে না। পথে পথে তেল নিতে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছেন।
জানা গেছে, কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণে ডিজেল সরবরাহ থাকলেও অকটেন ও পেট্রোলের তীব্র সংকট রয়েছে। অল্প সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা—ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
মোটরসাইকেল চালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না জ্বালানি সংকটের কারণে।
এদিকে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, তেলের এই সংকটের পেছনে কৃত্রিম মজুদ বড় কারণ। অনেকেই বাড়তি লাভের আশায় তেল মজুদ করছেন, আবার প্রয়োজন না থাকলেও অনেকে ট্যাংক পূর্ণ করে রাখছেন। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রশাসন মাঠে নেমেছে এবং অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।























