ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর কথায় ইরানে অভিযান আমেরিকার! ইঙ্গিত গোয়েন্দা রিপোর্টে

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কার্যত স্থগিত রেখে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়ে এখনও নানা মহলে কৌতূহল রয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুই প্রকারান্তরে ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান শুরু করার বার্তা দিয়েছিলেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা সামরিক অভিযান শুরু করার আগে (প্রতিবেদন অনুসারে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে) নেতানিয়াহু কথা বলেছিলেন ট্রাম্পের সঙ্গে। কী কারণে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করা প্রয়োজন, তারও নাকি ব্যাখ্যা দেন নেতানিয়াহু।

প্রতিবেদনে একটি নতুন গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে সেই বৈঠক এগিয়ে সকালে করা হয়। গোয়েন্দা সূত্র মারফত সেই খবর পেয়েই ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান শুরুর বার্তা দেন নেতানিয়াহু। রয়টার্সের প্রতিবেদনে তেমনই দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে এ-ও অবশ্য বলা হয়েছে যে, ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে ফেলেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে তা শুরু করা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত তখনও পর্যন্ত নেয়নি হোয়াইট হাউস। মনে করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘রাজি করিয়েছিলেন’ নেতানিয়াহুই। তা ছাড়া গোয়েন্দা রিপোর্টেও বলা হয়েছিল যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ‘দুর্বল’ অবস্থানে আছে। তার পরেই নেতানিয়াহুর পরামর্শে ট্রাম্প রাজি হয়ে যান বলে ওই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প অবশ্য ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার দায় কার্যত মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের উপরেই চাপিয়েছেন। সোমবার টেনেসিতে হেগসেথকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “পিট, আমার মনে হয় তুমিই প্রথম কেউ, যে আমায় বলেছিল, ‘এ বার শুরু করুন। আপনি ওদের পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেবেন না।’”

সামরিক অভিযান শুরুর পরেই ট্রাম্প জানান, আয়াতোল্লা খামেনি নিহত হয়েছেন। সামরিক অভিযান শুরুর কারণ হিসাবে সেই সময় হোয়াইট হাউসের তরফে বলা হয়েছিল যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করতে এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরি না-করার প্রতিশ্রুতি আদায় করতেই তাদের এই পদক্ষেপ। তার পর অবশ্য যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলাতে থাকে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন-ঘনিষ্ঠ দেশগুলিতে হামলা চালাতে থাকে ইরান। সিরায়েলেও হামলা চালানো হয়। পণ্য পরিবহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে দেয় ইরান। যার জেরে গোটা বিশ্বেই জ্বালানির জোগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নেতানিয়াহুর কথায় ইরানে অভিযান আমেরিকার! ইঙ্গিত গোয়েন্দা রিপোর্টে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কার্যত স্থগিত রেখে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়ে এখনও নানা মহলে কৌতূহল রয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুই প্রকারান্তরে ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান শুরু করার বার্তা দিয়েছিলেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা সামরিক অভিযান শুরু করার আগে (প্রতিবেদন অনুসারে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে) নেতানিয়াহু কথা বলেছিলেন ট্রাম্পের সঙ্গে। কী কারণে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করা প্রয়োজন, তারও নাকি ব্যাখ্যা দেন নেতানিয়াহু।

প্রতিবেদনে একটি নতুন গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে সেই বৈঠক এগিয়ে সকালে করা হয়। গোয়েন্দা সূত্র মারফত সেই খবর পেয়েই ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান শুরুর বার্তা দেন নেতানিয়াহু। রয়টার্সের প্রতিবেদনে তেমনই দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে এ-ও অবশ্য বলা হয়েছে যে, ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে ফেলেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে তা শুরু করা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত তখনও পর্যন্ত নেয়নি হোয়াইট হাউস। মনে করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘রাজি করিয়েছিলেন’ নেতানিয়াহুই। তা ছাড়া গোয়েন্দা রিপোর্টেও বলা হয়েছিল যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ‘দুর্বল’ অবস্থানে আছে। তার পরেই নেতানিয়াহুর পরামর্শে ট্রাম্প রাজি হয়ে যান বলে ওই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প অবশ্য ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার দায় কার্যত মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের উপরেই চাপিয়েছেন। সোমবার টেনেসিতে হেগসেথকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “পিট, আমার মনে হয় তুমিই প্রথম কেউ, যে আমায় বলেছিল, ‘এ বার শুরু করুন। আপনি ওদের পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেবেন না।’”

সামরিক অভিযান শুরুর পরেই ট্রাম্প জানান, আয়াতোল্লা খামেনি নিহত হয়েছেন। সামরিক অভিযান শুরুর কারণ হিসাবে সেই সময় হোয়াইট হাউসের তরফে বলা হয়েছিল যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করতে এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরি না-করার প্রতিশ্রুতি আদায় করতেই তাদের এই পদক্ষেপ। তার পর অবশ্য যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলাতে থাকে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন-ঘনিষ্ঠ দেশগুলিতে হামলা চালাতে থাকে ইরান। সিরায়েলেও হামলা চালানো হয়। পণ্য পরিবহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে দেয় ইরান। যার জেরে গোটা বিশ্বেই জ্বালানির জোগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।