ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধে বিধ্বস্ত অর্থনীতি, সংকটে এক কোটির নোট ছাপল ইরান

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চলমান যুদ্ধের প্রভাবে কার্যত বিপর্যস্ত ইরান-এর অর্থনীতি। দেশটির মুদ্রা ইরানি রিয়াল-এর মান ভয়াবহভাবে পড়ে যাওয়ায় এবার এক কোটি রিয়াল মূল্যমানের নতুন নোট ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শুনতে বিশাল অঙ্কের মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটিতে লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির কারণে এই বিপুল অঙ্কের নোটও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে খুব বেশি সহায়ক নয়। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে সাধারণ মানুষকে বড় বড় নোটের বান্ডিল বহন করতে হচ্ছে—এই ভোগান্তি কমাতেই উচ্চমূল্যের নোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, তেলের ওপর রপ্তানি সীমাবদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ দেশটির অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে মুদ্রার ওপর আস্থা কমে গেছে সাধারণ মানুষের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন নোট চালু করা মূলত একটি সাময়িক সমাধান। এতে মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন কিছুটা সহজ হলেও মুদ্রাস্ফীতি কমবে না; বরং দীর্ঘমেয়াদে রিয়ালের প্রতি আস্থা আরও কমতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা এবং বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হওয়া পর্যন্ত ইরানের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, এই ঘটনা দেখাচ্ছে—যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে একটি দেশের মুদ্রাকে কার্যত মূল্যহীন করে তুলতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যুদ্ধে বিধ্বস্ত অর্থনীতি, সংকটে এক কোটির নোট ছাপল ইরান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চলমান যুদ্ধের প্রভাবে কার্যত বিপর্যস্ত ইরান-এর অর্থনীতি। দেশটির মুদ্রা ইরানি রিয়াল-এর মান ভয়াবহভাবে পড়ে যাওয়ায় এবার এক কোটি রিয়াল মূল্যমানের নতুন নোট ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শুনতে বিশাল অঙ্কের মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটিতে লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির কারণে এই বিপুল অঙ্কের নোটও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে খুব বেশি সহায়ক নয়। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে সাধারণ মানুষকে বড় বড় নোটের বান্ডিল বহন করতে হচ্ছে—এই ভোগান্তি কমাতেই উচ্চমূল্যের নোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, তেলের ওপর রপ্তানি সীমাবদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ দেশটির অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে মুদ্রার ওপর আস্থা কমে গেছে সাধারণ মানুষের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন নোট চালু করা মূলত একটি সাময়িক সমাধান। এতে মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন কিছুটা সহজ হলেও মুদ্রাস্ফীতি কমবে না; বরং দীর্ঘমেয়াদে রিয়ালের প্রতি আস্থা আরও কমতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা এবং বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হওয়া পর্যন্ত ইরানের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, এই ঘটনা দেখাচ্ছে—যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে একটি দেশের মুদ্রাকে কার্যত মূল্যহীন করে তুলতে পারে।