ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের সংকট, বিপাকে কৃষক ও বাইকচালক

মোঃ বিপ্লব, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ ১১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা-এ তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকরা।

চলতি বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেল না পেয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে জমি শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা, যা ফসল উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, বেশি টাকা দিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন বিরাশি গ্রামের কৃষক আনিকুল ইসলামও। তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগও বেড়েছে। কোনো পাম্পে তেল আসার খবর পেলেই সেখানে ভিড় জমছে। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ তেল নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিপোতে তেল থাকলেও কিছু পাম্প মালিক তা উত্তোলন করছেন না। তবে পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জুই ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নারায়ণ চন্দ্র রাজবংশী জানান, ঈদ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তেলের চাহিদা বেড়েছে। অল্প সময়েই সরবরাহ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংকট সাময়িক এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এদিকে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জ্বালানি তেলের সংকট, বিপাকে কৃষক ও বাইকচালক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা-এ তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকরা।

চলতি বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেল না পেয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে জমি শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা, যা ফসল উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, বেশি টাকা দিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন বিরাশি গ্রামের কৃষক আনিকুল ইসলামও। তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগও বেড়েছে। কোনো পাম্পে তেল আসার খবর পেলেই সেখানে ভিড় জমছে। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ তেল নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিপোতে তেল থাকলেও কিছু পাম্প মালিক তা উত্তোলন করছেন না। তবে পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জুই ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নারায়ণ চন্দ্র রাজবংশী জানান, ঈদ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তেলের চাহিদা বেড়েছে। অল্প সময়েই সরবরাহ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংকট সাময়িক এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এদিকে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।