ঈদের টানা ছুটিতে বন্ধ থাকবে ব্যাংক, তবে লেনদেন চলবে বিকল্প ব্যবস্থায়
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার টানা সাত দিনের ছুটির কবলে পড়ছে দেশ। এ সময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শাখা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে এতে টাকাপয়সার লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ হবে না। বিকল্প ব্যাংকিং সেবা চালু থাকায় গ্রাহকেরা সহজেই প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন।
ছুটির সময় নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে এটিএম বুথ, ক্যাশ রিসাইকেল মেশিন (সিআরএম) এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বড় ভরসা হয়ে উঠবে। গ্রাহকেরা কার্ড ব্যবহার করে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন। একই সঙ্গে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনে কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা বা লেনদেন করা যাবে। ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ সব ধরনের অনলাইন লেনদেনও স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে।
এ ছাড়া বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা পাঠানো, উত্তোলন বা জমা দেওয়ার সুবিধাও থাকবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বিকল্প ব্যবস্থার কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকলেও আর্থিক লেনদেনে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে দীর্ঘ ছুটিতে অনেক সময় এটিএম বুথে নগদ টাকার সংকট দেখা দিতে পারে।
এটিএমে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ
ঈদের ছুটিতে গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে সব ব্যাংককে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে এ বিষয়ে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সাধারণত ঈদের সময় এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের চাহিদা বাড়ে এবং অনেক জায়গায় গ্রাহকদের দীর্ঘ সারিও দেখা যায়।
শুধু এটিএম নয়, পিওএস, কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।
ডিজিটাল সেবায় বাড়ছে লেনদেন
বর্তমানে অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংক হিসাব খোলার সময় গ্রাহকদের এটিএম কার্ড প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে বেশিরভাগ গ্রাহকের হাতেই এখন কার্ড রয়েছে। ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকলেও এটিএম বা সিআরএম মেশিন থেকে টাকা উত্তোলন ও জমা দেওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাংকগুলোর ১২ হাজার ৭১৩টি এটিএম বুথ এবং ৮ হাজার ৪৮৩টি সিআরএম মেশিন রয়েছে। পাশাপাশি দেশে পিওএস মেশিনের সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৩টি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি ব্যাংক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে, যদিও অনেক গ্রাহকের একাধিক ব্যাংকের কার্ড রয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানো সম্ভব। বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ। গত জানুয়ারিতে এই সেবার মাধ্যমে এক লাখ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের বিস্তারের কারণে ঈদের ছুটিতে ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকলেও গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেন থেমে থাকবে না।





















