পবিত্র শবে কদর: ইবাদত-বন্দেগিতে কাটবে বরকতময় রাত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০০:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
সারা দেশে আজ সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র শবে কদর বা লাইলাতুল কদর। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি বছরের সবচেয়ে মহিমান্বিত ও বরকতময় রাত হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বাস করা হয়, এই রজনীতেই মানবজাতির মুক্তির পথনির্দেশক পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছিল। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করবেন।
পবিত্র কুরআনের সূরা কদরে এই রাতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে তুমি কী জান? লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।’ (সূরা কদর: ১–৩)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, এই এক রাতের ইবাদতের সওয়াব প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের সমতুল্য হতে পারে।
সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হবে এই বরকতময় রাতের আমল। দেশের মসজিদগুলোতে ইবাদত-বন্দেগি ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরেও অনেক মুসল্লি নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও দীর্ঘ মোনাজাতে রাত কাটাবেন। রমজানের শেষ সময়ে এই রাত আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত।
হাদিসে উল্লেখ আছে, রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো রাত নিশ্চিতভাবে উল্লেখ নেই, তবু অনেক আলেম রমজানের ২৭তম রাতকে শবে কদর হিসেবে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে জানা যায়, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন—শবে কদর পেলে কী দোয়া করা উচিত। উত্তরে রাসুল (সা.) এই দোয়া শিক্ষা দেন:
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।”
অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।”
এই পবিত্র রাতে মুসলমানরা অতীতের ভুলের জন্য তওবা করে নতুনভাবে জীবন গড়ার অঙ্গীকার করেন এবং আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।





















