মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির ছোঁয়া, চা বাগানে ফিরেছে সবুজের সমারোহ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চা বাগানগুলোতে মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টির ছোঁয়ায় ফিরে এসেছে সবুজের প্রাণচাঞ্চল্য। সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার চা বাগানগুলোতে গত দুদিনে প্রকৃতির রূপ বদলে গেছে। শুকনো ও হলদে পাতার জায়গা দখল করেছে কচি সবুজ পাতা।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে স্নাত হয় প্রকৃতি। এই বৃষ্টি ঘিরে চা বাগানগুলোতে শুরু হয়েছে নতুন কর্মচাঞ্চল্য। বৃষ্টির পর চা গাছে যে কচি পাতা গজায়, তাকে বলা হয় “ফার্স্ট ফ্লাশ”—যা বছরের সবচেয়ে মানসম্মত ও সুগন্ধি চা পাতা হিসেবে পরিচিত।
বিশেষ করে শিল্পপতি ড. আলহাজ রাগীব আলী-এর স্বপ্নের রাজনগর চা বাগান-এ প্রথম বৃষ্টির পর আনুষ্ঠানিকভাবে চা পাতা চয়ন শুরু হয়েছে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকরা বাগানে নেমে পড়েন কচি পাতা সংগ্রহে।
চা বাগানে সাধারণত “টু লিভস অ্যান্ড এ বাড”—অর্থাৎ একটি কুঁড়ি ও দুটি পাতা নিয়মে পাতা তোলা হয়। এতে চায়ের গুণগত মান বজায় থাকে। শ্রমিকদের দক্ষ হাতে সারি সারি সবুজ গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় কোমল কুঁড়ি ও পাতা।
চা সংশ্লিষ্টরা জানান, মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির পানিতে চা গাছ দ্রুত সতেজ হয়ে ওঠে এবং নতুন কুঁড়ি দ্রুত বের হয়। ফলে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি এই সময়ের চা পাতায় বিশেষ স্বাদ ও ঘ্রাণ তৈরি হয়, যা বাজারে আলাদা গুরুত্ব পায়।
রাজনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের চা শিল্পে এই মৌসুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গলসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চা বাগানগুলোতে প্রথম বৃষ্টির পর পাতা চয়নকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
বাগানের নারী শ্রমিক বাসন্তী রবিদাশ বলেন, “প্রথম বৃষ্টির এই স্নিগ্ধতায় শুরু হয় নতুন মৌসুমের চা উৎপাদনের পথচলা। আমরা চা গাছগুলোকে সন্তানের মতো লালন করি।”
বাগানের সহকারী সিনিয়র ব্যবস্থাপক জুয়েল আহমদ জানান, বৃষ্টিভেজা দিনে মৌসুমের প্রথম পাতা চয়ন শুভ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে চা উৎপাদন ভালো হওয়ার আশা করছেন তারা।
এদিকে পাতা চয়ন শুরুর আগে বাগানের সমৃদ্ধি কামনায় প্রার্থনা করেন ইমাম ও পুরোহিত। অনুষ্ঠানে গত বছরের সেরা ছয়জন পাতা চয়নকারী শ্রমিকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাগান কর্তৃপক্ষ।





















