গরমে শরীরে আয়রনের ঘাটতি? ৭ খাবারে মিলতে পারে সমাধান
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
গরমের সময় অনেকের শরীরে দুর্বলতা, ক্লান্তি বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা যায়। এর একটি বড় কারণ হতে পারে শরীরে আয়রনের ঘাটতি। আয়রন আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, যা হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে এবং রক্তের মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। দীর্ঘদিন আয়রনের ঘাটতি থাকলে দেখা দিতে পারে Iron Deficiency Anemia-এর মতো সমস্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু আয়রনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে সহজেই এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
আয়রন ঘাটতি দূর করতে সহায়ক ৭ খাবার
১. বেদানা (ডালিম)
গরমের জনপ্রিয় ফল বেদানা পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে আয়রনের পাশাপাশি ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে। নিয়মিত বেদানা খেলে শরীরের কোষ সুরক্ষিত থাকে এবং দুর্বলতা কমতে পারে।
২. পালং শাক
পালং শাকে প্রচুর নন-হিম আয়রন থাকে। নিয়মিত পালং শাক খেলে শরীর প্রয়োজনীয় খনিজ পায় এবং ক্লান্তি দূর হয়।
৩. বিটরুট
বিটরুটকে অনেকেই ‘রক্ত বাড়ানোর’ খাবার হিসেবে চেনেন। এতে আয়রন, ফোলেট ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।
৪. ডাল ও ডালজাতীয় খাবার
মসুর ডাল, ছোলা, বিভিন্ন ধরনের বিনস নিরামিষভোজীদের জন্য আয়রনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এগুলোতে প্রোটিন ও ফাইবারও থাকে, যা শরীরকে শক্তি জোগায়।
৫. তরমুজ
তরমুজে আয়রনের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও এতে প্রচুর পানি ও ভিটামিন থাকে। গরমে শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এটি বেশ কার্যকর।
৬. গুড়
প্রাচীনকাল থেকেই গুড় আয়রনের উৎস হিসেবে পরিচিত। পরিশোধিত চিনির তুলনায় এতে কিছু খনিজ উপাদান থাকে। তবে ক্যালরি বেশি হওয়ায় পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
৭. সজনে পাতা
সজনে পাতায় প্রচুর উদ্ভিজ আয়রন এবং প্রাকৃতিক ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণে সহায়তা করে, ফলে এটি আয়রনের ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত।
আয়রন শোষণ বাড়াতে যা করবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল—যেমন আমলকি, লেবু বা কমলা—খেলে শরীর সহজে আয়রন শোষণ করতে পারে।
যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা ভালো
আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের ঠিক পরপরই চা বা কফি খাওয়া ঠিক নয়। এসব পানীয়তে থাকা পলিফেনল আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারও আয়রনের শোষণ কমাতে পারে।
সুষম খাদ্যাভ্যাস ও সচেতন খাবার নির্বাচনের মাধ্যমে সহজেই শরীরে আয়রনের ঘাটতি কমিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।





















