ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অটোরিকশা চালককে গলা কেটে হত্যা, তিন দিনেও রহস্য উদঘাটন হয়নি

নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অটোরিকশা চালক হোসেন আহমেদ ওরফে হেঞ্জু মিয়া (৪০) হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। নৃশংস এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) রাতে নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে একই দিন বিকেল সোয়া ৩টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গণিপুর খাল থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় গলাকাটা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত হেঞ্জু মিয়া জেলার সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খলিশালটা গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন এবং বেগমগঞ্জের চৌমুহনী কলেজ রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মার্চ বিকেলে হেঞ্জু তার অটোরিকশা নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে পরিবার ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গত সোমবার দুপুরে বেগমগঞ্জ স্টেডিয়াম সংলগ্ন গণিপুর খালে একটি সন্দেহজনক বস্তা দেখতে পান স্থানীয়রা। দীর্ঘ সময় বস্তাটি একই স্থানে পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা খুলে ভেতরে গলাকাটা মরদেহ দেখতে পায়। নিহতের হাত-পা প্লাস্টিক দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা ছিল। পুলিশের ধারণা, ২–৩ দিন আগে পরিকল্পিতভাবে অন্য কোথাও তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যাতে হত্যার আলামত গোপন থাকে। তবে স্থানীয়দের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার দিন রাতেই তাকে হত্যা করা হতে পারে।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামছুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন রাতেই নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অটোরিকশা চালককে গলা কেটে হত্যা, তিন দিনেও রহস্য উদঘাটন হয়নি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অটোরিকশা চালক হোসেন আহমেদ ওরফে হেঞ্জু মিয়া (৪০) হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। নৃশংস এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) রাতে নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে একই দিন বিকেল সোয়া ৩টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গণিপুর খাল থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় গলাকাটা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত হেঞ্জু মিয়া জেলার সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খলিশালটা গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন এবং বেগমগঞ্জের চৌমুহনী কলেজ রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মার্চ বিকেলে হেঞ্জু তার অটোরিকশা নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে পরিবার ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গত সোমবার দুপুরে বেগমগঞ্জ স্টেডিয়াম সংলগ্ন গণিপুর খালে একটি সন্দেহজনক বস্তা দেখতে পান স্থানীয়রা। দীর্ঘ সময় বস্তাটি একই স্থানে পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা খুলে ভেতরে গলাকাটা মরদেহ দেখতে পায়। নিহতের হাত-পা প্লাস্টিক দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা ছিল। পুলিশের ধারণা, ২–৩ দিন আগে পরিকল্পিতভাবে অন্য কোথাও তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যাতে হত্যার আলামত গোপন থাকে। তবে স্থানীয়দের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার দিন রাতেই তাকে হত্যা করা হতে পারে।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামছুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন রাতেই নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।