জয়পুরহাটে ভালো ফলন, তবু লোকসানে আলুচাষিরা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে
জয়পুরহাটে এবারের মৌসুমে আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারদর কম থাকায় চাষিরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। মাঠে উৎপাদন আশাব্যঞ্জক হলেও বিক্রির সময় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা হতাশ। অতিরিক্ত সরবরাহ, সংরক্ষণ ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয় চাষি মোয়াজ্জিম হোসেন জানান, “আমার ১৭০ মণ আলু হয়েছে। বিক্রি করেছি ৩০–৪০ হাজার টাকায়। মজুরি বাদ দিলে কিছুই থাকছে না— পুরো টাকাই লোকসান।”
সাহেব জামাল বলেন, “প্রতি বিঘায় শুধু মজুরির খরচই ৮–৯ হাজার টাকা। ব্যবসায়ীরা ঠিক দাম দিচ্ছেন না, আবার সঙ্গে সঙ্গে টাকাও দিচ্ছেন না।”
সুমন্ত চন্দ্র প্রামাণিকের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘায় খরচ ৩০–৩৫ হাজার টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ বিঘাপ্রতি ১৫–২০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, অনেক ব্যবসায়ী আলু কিনেও সময়মতো টাকা পরিশোধ করছেন না। বর্তমানে সাদা আলু প্রতি মণ ২২০–২৩০ টাকা এবং গ্যানোলা জাত ২০০–২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে— যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।
ছাইফুল ইসলাম বলেন, “কোল্ড স্টোরে রাখার খরচ বেড়েছে। ভাড়া ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা হয়েছে, বস্তার দাম ৮০ থেকে ১২০ টাকা। এ দামে সংরক্ষণ সম্ভব নয়।”
জাহিদ হোসেন জানান, প্রতি শতকে খরচ ১,৫০০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়। ফলে অনেকে এখনো আলু তোলেননি।
মিলন চন্দ্র মহন্ত বলেন, “গত বছর কোল্ড স্টোরে রেখে লোকসান হয়েছিল। এবারও একই অবস্থা। সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামনে বছর আলু চাষ করব না।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম জানান, জেলায় এ বছর মোট ৩৯,৩০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। তিনি বলেন, “আলুভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন করা গেলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সরকারও রাজস্ব আয় করতে পারবে।”
ভালো ফলন সত্ত্বেও বাজারব্যবস্থা ও সংরক্ষণ সংকটের কারণে জয়পুরহাটের আলুচাষিরা এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ না হলে আগামী মৌসুমে আলু চাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


























