অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো বাইরে : এম সাখাওয়াত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের বড় বড় সিদ্ধান্ত কেবিনেটে আলোচনা না করে বাইরে নেওয়া হতো।
তিনি বলেন, যারা ভিন্নমত পোষণ করতেন, তাদের মতামত সাধারণত ছোটখাটো বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকত।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা যারা দ্বিমত করেছি, সেগুলো ছিল ছোটখাটো বিষয়, যেমন সূচি বাদ দেওয়া। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটে হতো না, এগুলো কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হতো।”
তিনি আরও বলেন, সব সরকারেরই একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকে—এমন মন্তব্য শুনেছি, তবে সেখানে কারা ছিলেন তা জানি না। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, তিনি সেখানে ছিলেন না এবং মনোভাবগত কারণে তারা ধরে নিয়েছিল, তিনি তাদের সঙ্গে একমত হতে পারবেন না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পুলিশের পুনর্গঠনই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। তখন পরিস্থিতি এমন ছিল যে পুলিশ মাঠে নামতে চাইছিল না। অনেক থানা লুট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছিল। তিনি পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশকে উৎসাহিত করেন, পরে বোঝাপড়ার মাধ্যমে তারা মাঠে নামে।
তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় প্রায় চার হাজার রাইফেল লুট হয়েছিল; এর মধ্যে কিছু উদ্ধার করা গেলেও এক হাজারের বেশি রাইফেল ও পিস্তল তখনো নিখোঁজ। এসব অস্ত্র বর্তমান সরকারের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
কেন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো—এ বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু বক্তব্য তখনকার প্রেক্ষাপটে সঠিক মনে হয়নি। তিনি জানালেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাকে দায়িত্ব ছাড়তে না দিয়ে বলেছিলেন, “৭-৮ দিনের মধ্যে চলে গেলে খারাপ বার্তা যাবে।”
৭.৬২ বুলেট ও চাইনিজ টাইপ-৩৯ রাইফেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টির এখনো সমাধান হয়নি। আনসারদের ওপর হামলার ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু ব্যক্তি পুলিশের রাইফেল ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, এসব অত্যন্ত মারাত্মক অস্ত্র, যা সাধারণ পুলিশের কাছে থাকার কথা নয়।
সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, তার কাছে কিছু সন্দেহজনক ছবি রয়েছে, যেখানে কয়েকজনের চেহারা ও গঠন স্থানীয়দের মতো নয় এবং কয়েকজনকে হেলিকপ্টারে ওঠানো হয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো নির্বাচন শতভাগ নিখুঁত হয় না। বাংলাদেশের তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৭৭টি আসন পায়, যা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, কোনো গোপন চুক্তি হয়নি। সাধারণত এসব চুক্তি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পিপিপি অথরিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তিনি যুক্তি দেন, আমেরিকান কম্পানির শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের ৫ শতাংশ নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল।
বিদেশি প্রভাব সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, সব ক্ষেত্রে নয়, তবে কিছু বিষয়ে চাপ ছিল, বিশেষ করে বাণিজ্য আলোচনায়। আগের সময়ে নীতিনির্ধারণ অনেকটাই দিল্লিকেন্দ্রিক ছিল, যা রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পেছনের প্রভাবও প্রমাণ করে।




















