পাকিস্তানকে রুখতে তালিবানের ‘সুইসাইড স্কোয়াড’
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
পাকিস্তানের বিমান হামলার পাল্টা জবাবকে কেন্দ্র করে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শুক্রবার থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
একাধিক রিপোর্টে বলা হয়, পাকিস্তানি বাহিনীকে জবাব দিতে তালিবান তাদের বিশেষ ‘ফিদায়েঁ’ বা আত্মঘাতী স্কোয়াডকে প্রস্তুত রেখেছে। আফগান সরকারি বার্তা সংস্থা ‘বখতর নিউজ’ এক প্রতিবেদনে ফিদায়েঁ যোদ্ধাদের একটি ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে বিস্ফোরকভর্তি জ্যাকেট পরিহিত যোদ্ধাদের দেখা যায় বলে উল্লেখ করা হয়। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, নির্দেশ পেলেই গাড়িবোমা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আত্মঘাতী হামলার জন্য তারা প্রস্তুত।
তালিবান মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরত বলেন, বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন ও খোস্ত সীমান্ত এলাকায় জবাবি হামলা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে তালিবানের আরেক মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরতও সীমান্তে উত্তেজনার কথা স্বীকার করেছেন।
আফগান প্রশাসনের দাবি, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে আফগান বাহিনী সীমান্ত অতিক্রম করে পাল্টা আক্রমণ চালায়। এতে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পোস্ট তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বহু সেনা হতাহত হয় বলে দাবি করা হয়।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে আসা হামলার জবাবেই তাদের বিমানবাহিনী অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ বলেছেন, ধৈর্যের সীমা অতিক্রম হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সরাসরি যুদ্ধের পথেই হাঁটবে ইসলামাবাদ।
আফগান সূত্রের দাবি, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। অপরদিকে পাকিস্তান জানায়, তাদের যুদ্ধবিমান কান্দাহার অঞ্চলে টহল জোরদার করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও কঠোর বক্তব্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অদূরে সেনাঘাঁটিতে আফগান হামলা
বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি জায়গায় হামলা চালায় পাকিস্তান। এ বার আফগানিস্তান দাবি করল, তারা ইসলামাবাদের ফৈজ়াবাদে পাক প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ছয় কিলোমিটার দূরে সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজ়াহিদ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পাকিস্তান বার বার যুদ্ধের রাস্তায় যাচ্ছে। তারা যদি এই কাজ লাগাতার করতে থাকে, আফগানিস্তানেরও অধিকার আছে তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার।
তাঁর কথায়, ‘‘আমরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকব না। পাল্টা জবাব দেওয়া হবেই। ইতিমধ্যে সেই জবাবও আমরা দিচ্ছি।’’ মুজ়াহিদের দাবি, ইসামলামাবাদে পাক সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়াও আরও কয়েকটি সেনাঘাঁটিতে হামলা করেছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘‘এই হামলার মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানকে এটাই বার্তা দিতে চাই, ওদের টুঁটি চেপে ধরতে বেশি সময় লাগবে না।’
আল জ়াজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের বাজুর শহরেও আত্মঘাতী ড্রোন এবং মর্টার হামলা হয়েছে। সেই হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের এক মুখপাত্র এক্স হ্যান্ডলে দাবি করেছেন, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের দফতরের ছ’কিলোমিটার দূরে আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে একটি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। আফগান সেনার তরফেও দাবি করা হয়েছে, ফৈজ়াবাদ, নওশেরা, জামরুদ মিলিটারি কলোনি এবং অ্যাবটাবাদে বিমান হামলা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানে রাতভর ‘গজ়ব লিল-হক’ অভিযান চালায় পাকিস্তান বায়ুসেনা। কাবুল, কন্দহর, পকতিয়ায় মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণে ১৩০ তালিবান যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের। ইসলামাবাদ ‘খোলাখুলি’ যুদ্ধের হুঙ্কার দেয়। তার পরই আফগানিস্তান হুঁশিয়ারি দেয়, এ জবাব দেওয়া হবে শীঘ্রই। তার পরই শুক্রবার সকাল হতেই হামলার বহর বৃদ্ধি করে আফগানিস্তান।

























