ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে দস্যু দমনে কম্বিং অপারেশন, ১০ দিনেও মুক্ত নয় ২০ জেলে

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুন্দরবন এলাকায় বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর কম্বিং অপারেশন। কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নিয়েছে নৌবাহিনী, র‌্যাব, নৌপুলিশ, পুলিশ ও বন বিভাগ। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান সুন্দরবন দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

তবে অভিযান চলমান থাকলেও অপহরণের ১০ দিন পার হলেও এখনো মুক্তি মেলেনি ২০ জেলের। তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাননি মহাজন ও পরিবার-পরিজন। মহাজনদের দাবি, জিম্মিদের মুক্তির জন্য জনপ্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা করে মুক্তিপণ চেয়েছে দস্যুরা। টাকা না দিলে জিম্মিদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে তুলে নিয়ে যায় সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা। অপহৃতরা পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোল ও নারিকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলে। তাদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়।

গত দেড় বছরে অন্তত ২০টি বনদস্যু বাহিনীর উত্থান ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ফলে সুন্দরবন আবারও দস্যুদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। একসঙ্গে ২০ জেলে অপহরণের ঘটনার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার ঘোষণা দেয় সরকার।

এর প্রেক্ষিতে ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সার্কিট হাউসে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথ অভিযান শুরু হয়।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, সরকারের নির্দেশে সমন্বিত এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং দস্যু নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।

দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীর কয়েকজন মহাজন জানান, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা এখন শুধু দিনের বেলায় ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। এখনো অপহৃতদের উদ্ধার সম্ভব হয়নি, ফলে পরিবারগুলো চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নূর আলম শেখ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে দস্যুদের আধিপত্য বেড়েছে। তার মতে, কেবল প্রকাশ্য অভিযান নয়, কার্যকর গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো জরুরি।

দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদও যৌথ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গোপন ও কৌশলগত পদ্ধতিতে অভিযান পরিচালনা করলে সফলতা আসতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, যে কোনো মূল্যে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং জেলে ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সুন্দরবনে দস্যু দমনে কম্বিং অপারেশন, ১০ দিনেও মুক্ত নয় ২০ জেলে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুন্দরবন এলাকায় বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর কম্বিং অপারেশন। কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নিয়েছে নৌবাহিনী, র‌্যাব, নৌপুলিশ, পুলিশ ও বন বিভাগ। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান সুন্দরবন দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

তবে অভিযান চলমান থাকলেও অপহরণের ১০ দিন পার হলেও এখনো মুক্তি মেলেনি ২০ জেলের। তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাননি মহাজন ও পরিবার-পরিজন। মহাজনদের দাবি, জিম্মিদের মুক্তির জন্য জনপ্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা করে মুক্তিপণ চেয়েছে দস্যুরা। টাকা না দিলে জিম্মিদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে তুলে নিয়ে যায় সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা। অপহৃতরা পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোল ও নারিকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলে। তাদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়।

গত দেড় বছরে অন্তত ২০টি বনদস্যু বাহিনীর উত্থান ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ফলে সুন্দরবন আবারও দস্যুদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। একসঙ্গে ২০ জেলে অপহরণের ঘটনার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার ঘোষণা দেয় সরকার।

এর প্রেক্ষিতে ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সার্কিট হাউসে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথ অভিযান শুরু হয়।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, সরকারের নির্দেশে সমন্বিত এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং দস্যু নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।

দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীর কয়েকজন মহাজন জানান, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা এখন শুধু দিনের বেলায় ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। এখনো অপহৃতদের উদ্ধার সম্ভব হয়নি, ফলে পরিবারগুলো চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নূর আলম শেখ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে দস্যুদের আধিপত্য বেড়েছে। তার মতে, কেবল প্রকাশ্য অভিযান নয়, কার্যকর গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো জরুরি।

দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদও যৌথ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গোপন ও কৌশলগত পদ্ধতিতে অভিযান পরিচালনা করলে সফলতা আসতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, যে কোনো মূল্যে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং জেলে ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।