কি ঘটেছিলো নরসিংদীর ধর্ষিত কিশোরীর সাথে?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীর মাধবদীতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ১৫ বছর বয়সী কিশোরী আমেনা আক্তারের জীবন এমন নির্মমভাবে থেমে গেছে, যা শুধুই পরিবারের নয়—সমস্ত সমাজের হৃদয় ব্যথিত করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ দিন আগে এক বখাটে চক্র আমেনাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিচার চেয়ে পরিবারটি মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহমদুল্লাহর কাছে গেলে, অভিযোগ আছে, তারা ন্যায়বিচার না পেয়ে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য চাপের মুখে পড়েন।
পরিবারের বড় ভাই জানিয়েছেন, “মেম্বার সাহেব কইছিল মীমাংসা কইরা দিব, পরে এলাকা ছাড়তে কইছিল। আমরা কইছিলাম, ১ তারিখে চলে যামু। বুধবার রাত ৮টার দিকে আব্বা আমার বোনকে খালার বাড়ি নিতে যাচ্ছিল। বিলপাড় এলাকায় গেলে নূরাসহ ছয়জন এগিয়ে আসে। তারপর জোর করে আমার বোনকে তুলে নিয়ে যায়। সারারাত খুঁজছি। সকালে সরিষা ক্ষেতে তার লাশ পাইছি।”
পরিবারের চোখের সামন থেকে কিশোরীকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা বিলপাড় ও দড়িকান্দি এলাকার মাঝামাঝি একটি সরিষা ক্ষেতে তার লাশ উদ্ধার করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠন নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন সুষ্ঠু তদন্ত ও সব অপরাধীর গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুক্রবার সকালে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।
একটি পরিবারের সব আলো যেন এক মুহূর্তেই নিভে গেছে। প্রশ্ন এখন একটাই—এই শোক কি ন্যায়বিচারে পরিণত হবে, নাকি আরও এক অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাবে?
পাঁচজন গ্রেফতার
ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হল– মহিষাসুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, অভিযুক্ত ধর্ষক নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, এবায়দুল্লাহ, হোসেন বাজার এলাকার গাফফার। অপরদিকে, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নূরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে জেলা ও জেলার বাইরে অভিযান চলছে।
বিচার দাবি জামায়াত আমিরের
ঢাকা ও নরসিংদীতে সাম্প্রতিক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান, আমির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ঢাকায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের পর হত্যা, নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন এবং হাজারীবাগে এক স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনা গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও প্রশাসনিক শৈথিল্যের ইঙ্গিত মিলছে। অপরাধীদের বিচার নিশ্চিতের পরিবর্তে ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ দেওয়া বা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যায় বিএনপি নেতাও জড়িত: হাসনাত আব্দুল্লাহ
নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিতে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, মহিষাশুরা ইউনিয়নের সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান এ ঘটনায় জড়িত।























