ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাক-আফগান দ্বন্দ্ব: ডুরান্ড লাইনের তীব্র গোলাবর্ষণ

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা এফ ১৬ যুদ্ধবিমান

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তালিবান বাহিনী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে পাকিস্তানের দিকে ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। বিশেষত ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর গোলাবর্ষণ শুরু হয়। ডুরান্ড লাইন দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত ও বিতর্কিত অঞ্চলের সংযোগ রেখা হিসেবে পরিচিত।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, তালিবানরা শুধুমাত্র পাকিস্তানি সেনা অবস্থান ধ্বংস করেনি, একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানও গুলি করে নামিয়েছে। তালিবানদের দাবি, তারা একাধিক সামরিক পোস্ট ধ্বংস করেছে এবং সেখান থেকে প্রচুর নগদ অর্থ জব্দ করেছে। হামলার সূত্রপাত রবিবার রাত থেকে শুরু হয়েছিল, যা পাকিস্তানের এয়ার স্ট্রাইক এবং আফগানিস্তানের ওপর আচমকা হামলার উত্তরে প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে।

আফগান বাহিনীর দাবিতে, এই হামলায় অন্তত ১৯০ জন পাকিস্তানি সেনা শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিশেষ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে সামরিক পোস্টে নগদ অর্থের উপস্থিতি, যা কূটনীতিকদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব পোস্টে যুদ্ধ সরঞ্জাম থাকে সেখানে এত বিশাল নগদ অর্থ কেন সংরক্ষিত থাকে। কূটনীতিকদের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত ড্রোন এবং বেলুনের মাধ্যমে পাকিস্তানি টাকা ও মাদক সরবরাহ করা হতো, এবং ভারতীয় সেনা একাধিকবার তা আটক করেছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আফগানিস্তানের তেহরিক-ই-তালিবান ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তাই পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সামরিক পোস্টে গোলাবর্ষণ ও ভারী আর্টিলারি ব্যবহার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আফগানিস্তানের অবস্থান সমর্থন করে মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান সরকারের বালুচিস্তান ও খাইবার প্রদেশের প্রতি অবহেলা এবং নির্যাতনের ফলেই এই প্রতিশোধমূলক হামলার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

পাক-আফগান দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করতে চায় ইরান

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার সকালে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে যে কোনও সাহায্যে ইরান প্রস্তুত। কিন্তু পাকিস্তান অন্য দেশের সঙ্গে কথা বলছে। পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার যোগাযোগ করেছেন সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে। এই দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের পারস্পরিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে।

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান, দুই দেশই ইরানের সীমান্ত লাগোয়া। ফলে দুই পড়শির মধ্যে বিবাদ মেটাতে তৎপর হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার দেশটি। সমাজমাধ্যমে ইরানের বিদেশমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানকে আলোচনায় বসাতে, তাদের মধ্যে সহযোগিতা ও বোঝাপড়া বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনও সহায়তা করতে ইরান প্রস্তুত।’’ রমজান মাস চলছে। এই পবিত্র সময়ে সংঘর্ষ কাম্য নয় বলেও ইরানের বিদেশমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন। দুই দেশকে সংযত হওয়ার বার্তা দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জও।

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এখন সৌদি আরবেই রয়েছেন। আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাত প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে সৌদির বিদেশমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের ফোনে কথা হয়েছে। সৌদির বিদেশ মন্ত্রক সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সংঘাত নিয়ে দুই নেতা কথা বলেছেন। কী ভাবে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

গত বছর সেপ্টেম্বরে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর চার মাস পরে সৌদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল পাকিস্তান। পারস্পরিক কৌশলগত সেই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছিল, স্বাক্ষরকারী কোনও দেশের বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষের আগ্রাসন দুই দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসাবে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে আফগান সেনা।

তার জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা হামলা করেছে। দু’পক্ষেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত মনে করিয়ে সৌদির সাহায্য কি চাইবে পাকিস্তান? জল্পনা রয়েছে। কোনও দেশের পক্ষেই প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রসঙ্গ প্রকাশ্যে উত্থাপন করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাধিক রিপোর্টে দাবি, কাবুল-সহ আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ঘাজ়াব লিল হক’।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পাক-আফগান দ্বন্দ্ব: ডুরান্ড লাইনের তীব্র গোলাবর্ষণ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তালিবান বাহিনী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে পাকিস্তানের দিকে ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। বিশেষত ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর গোলাবর্ষণ শুরু হয়। ডুরান্ড লাইন দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত ও বিতর্কিত অঞ্চলের সংযোগ রেখা হিসেবে পরিচিত।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, তালিবানরা শুধুমাত্র পাকিস্তানি সেনা অবস্থান ধ্বংস করেনি, একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানও গুলি করে নামিয়েছে। তালিবানদের দাবি, তারা একাধিক সামরিক পোস্ট ধ্বংস করেছে এবং সেখান থেকে প্রচুর নগদ অর্থ জব্দ করেছে। হামলার সূত্রপাত রবিবার রাত থেকে শুরু হয়েছিল, যা পাকিস্তানের এয়ার স্ট্রাইক এবং আফগানিস্তানের ওপর আচমকা হামলার উত্তরে প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে।

আফগান বাহিনীর দাবিতে, এই হামলায় অন্তত ১৯০ জন পাকিস্তানি সেনা শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিশেষ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে সামরিক পোস্টে নগদ অর্থের উপস্থিতি, যা কূটনীতিকদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব পোস্টে যুদ্ধ সরঞ্জাম থাকে সেখানে এত বিশাল নগদ অর্থ কেন সংরক্ষিত থাকে। কূটনীতিকদের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত ড্রোন এবং বেলুনের মাধ্যমে পাকিস্তানি টাকা ও মাদক সরবরাহ করা হতো, এবং ভারতীয় সেনা একাধিকবার তা আটক করেছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আফগানিস্তানের তেহরিক-ই-তালিবান ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তাই পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সামরিক পোস্টে গোলাবর্ষণ ও ভারী আর্টিলারি ব্যবহার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আফগানিস্তানের অবস্থান সমর্থন করে মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান সরকারের বালুচিস্তান ও খাইবার প্রদেশের প্রতি অবহেলা এবং নির্যাতনের ফলেই এই প্রতিশোধমূলক হামলার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

পাক-আফগান দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করতে চায় ইরান

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার সকালে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে যে কোনও সাহায্যে ইরান প্রস্তুত। কিন্তু পাকিস্তান অন্য দেশের সঙ্গে কথা বলছে। পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার যোগাযোগ করেছেন সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে। এই দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের পারস্পরিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে।

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান, দুই দেশই ইরানের সীমান্ত লাগোয়া। ফলে দুই পড়শির মধ্যে বিবাদ মেটাতে তৎপর হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার দেশটি। সমাজমাধ্যমে ইরানের বিদেশমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানকে আলোচনায় বসাতে, তাদের মধ্যে সহযোগিতা ও বোঝাপড়া বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনও সহায়তা করতে ইরান প্রস্তুত।’’ রমজান মাস চলছে। এই পবিত্র সময়ে সংঘর্ষ কাম্য নয় বলেও ইরানের বিদেশমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন। দুই দেশকে সংযত হওয়ার বার্তা দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জও।

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এখন সৌদি আরবেই রয়েছেন। আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাত প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে সৌদির বিদেশমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের ফোনে কথা হয়েছে। সৌদির বিদেশ মন্ত্রক সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সংঘাত নিয়ে দুই নেতা কথা বলেছেন। কী ভাবে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

গত বছর সেপ্টেম্বরে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর চার মাস পরে সৌদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল পাকিস্তান। পারস্পরিক কৌশলগত সেই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছিল, স্বাক্ষরকারী কোনও দেশের বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষের আগ্রাসন দুই দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসাবে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে আফগান সেনা।

তার জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা হামলা করেছে। দু’পক্ষেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত মনে করিয়ে সৌদির সাহায্য কি চাইবে পাকিস্তান? জল্পনা রয়েছে। কোনও দেশের পক্ষেই প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রসঙ্গ প্রকাশ্যে উত্থাপন করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাধিক রিপোর্টে দাবি, কাবুল-সহ আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ঘাজ়াব লিল হক’।